শিশুদের চিকেন পক্স

বসন্তে শিশুদেরই চিকেন পক্স বেশি হতে দেখা যায়। চিকেন পক্স অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ। তবে শিশু ও বয়স্ক লোকের ক্ষেত্রে তা মারাত্মক আকারও ধারণ করতে পারে। তাই সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

চিকেন পক্সকে অনেকে গুটি বসন্ত কিংবা জল বসন্তও বলে থাকে। এটি ভাইরাসজনিত একটি রোগ। ভালোভাবে চিকিৎসা ও নিয়ম মেনে না চললে এর ফলে শরীরে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। সঙ্গে কমে যেতে পারে শিশুর শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা।

লক্ষণ

চিকেন পক্স হলে শুরুতেই বুঝতে কিছুটা সময় লাগে। এটি প্রথমে মশার কামড়ের মতো দানা দানা হয়ে শরীরে ওঠে। এরপর ঘামাচির মতো দেখায়। এক সময় তা ফুসকুড়ির মতো হয়ে ওঠে। ধীরে ধীরে পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে এবং ক্রমেই শরীর দুর্বল হতে থাকে। সাধারণত বুকে এবং পিঠেই র‌্যাশ বেশি উঠতে দেখা যায়। তবে মুখ, মাথা, হাত ও পায়ের তালুতে এমনকি চোখেও উঠতে পারে।

চিকিৎসা

১. চিকেন পক্স হলে নিয়ম মেনে চলাটা খুব জরুরি। নিয়ম মেনে চললে ১০-১৫ দিনেই পক্স ভালো হয়ে যায়।

২. শিশুকে বাইরে বের হতে দেয়া যাবে না। এতে বাইরের বাতাসে পক্স শুকাতে দেরি হতে পারে।

৩. চিকেন পক্সে সাধারণত বিশেষ কোনো ধরনের ওষুধ প্রয়োজন হয় না। তবে চিকেন পক্স হলে শরীর খুব চুলকায় সে জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ মতো ওষুধ খাওয়াতে পারেন। এ ছাড়াও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়া সব পক্স বের হওয়ার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে হোমিও কিংবা ইউনানি জাতীয় ওষুধ খাওয়াতে পারেন।
চিকেন পক্স হলে সেপসিস, এনকেফালাইটিস, নিউমোনিয়া ও অন্যান্য জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই এসবের চিকিৎসাও করানো প্রয়োজন।

ছোঁয়াচে হওয়ায়

চিকেন পক্স অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ। ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ, হাঁচি-কাশি এবং ব্যবহৃত জিনিসপত্রের মাধ্যমেই এটি বেশি ছড়ায়। তাই শিশু এ রোগে আক্রান্ত হলে আলাদা একটি ঘরে রাখা উচিত। ব্যবহৃত পোশাক, গামছা এগুলো যাতে অন্য কেউ ব্যবহার না করে সেদিকে খেয়াল রাখুন। পক্স ভালো হয়ে গেলে শিশুর ব্যবহৃত সব কাপড়-চোপড়, বিছানার চাদর, তোয়ালে গরম পানি এবং স্যাভলন দিয়ে ধুয়ে দিন।

খাবার-দাবার

চিকেন পক্স হলে শিশুকে আলু ভর্তা, লাউ, মুরগির মাংস, কবুতরের মাংস, শিং মাছের তরকারি বেশি বেশি খেতে দিন। করলা, লাল চা, গরম মিষ্টি এ সময় শিশুর জন্য উপকারী। মুসর ডাল, গরুর মাংস, বেগুন ১৫-২০ দিন না খাওয়ানোই ভালো। এতে শরীর আরও বেশি চুলকাতে পারে। চিকেন পক্সে শরীর খুব দুর্বল হয়ে যায়, তাই সুস্থ হওয়ার পরও দীর্ঘদিন শিশুকে পুষ্টিকর খাবার খেতে দিন।

গোসল

পক্স হওয়ার ৫-৬ দিন পর থেকে নিমপাতা ও হলুদ একসঙ্গে বেটে পুরো শরীরে মেখে ৪-৫ দিন গোসল করাতে হবে। এ ছাড়াও কিছুদিন পানিতে নিমপাতা সেদ্ধ করে গোসল করিয়ে দিন।

দাগ দূর করতে

চিকেন পক্সের দাগ দূর করতে বিশেষ ধরনের লোশন পাওয়া যায়। এগুলো লাগাতে পারেন। এ ছাড়া কচি ডাবের পানি দিয়ে শরীর, মুখ ধোয়ালেও দাগ দূর হয়।

সতর্কতা

১. শিশুকে ঠাণ্ডা থেকে দূরে রাখতে হবে।

২. পরিষ্কার কাপড় পরাতে হবে।

৩. র‌্যাশ ঝরা শুরু করলে এগুলো যেখানে-সেখানে না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে জমা করুন।

৪. খোসা এমনিতেই না উঠলে নখ দিয়ে ওঠানোর চেষ্টা করা উচিত নয়। এতে শরীরে দাগ হয়ে যেতে পারে।প্রতিরোধ।
চিকেন পক্সে আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শ থেকে শিশুকে দূরে রাখুন। ভেরিলিক্স এ রোগের প্রতিরোধক টিকা। একটু দামি হলেও এটি যথেষ্ট কার্যকর। শিশুর বয়স ১ বছর পূর্ণ হলে এক ডোজ এ টিকা দেয়ার মাধ্যমে শিশুকে চিকেন পক্সের আক্রমণ থেকে রক্ষা করা যায়।

বি:দ্র: প্রতিটি লেখার নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুকপেজ-এ লাইক দিন এবং বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে পারেন। যেকোন বিষয়ে জানতে চাইলে এবং আপনার কোন লেখা প্রকাশ করতে চাইলে আমাদের ফেসবুক পেজ বিডি লাইফ এ যেয়ে ম্যাসেজ করতে পারেন।

খবরগুলো আপনার ফেসবুক হোমপেজে নিয়মিত আপডেট পেতে লাইক করুন