বিবাহ পূর্ব রক্ত পরীক্ষা

38
data-language="en">

বিয়ের আগে পাত্র-পাত্রীর রক্ত পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া অত্যন্ত আবশ্যক। রক্তের ঠিক কি কি পরীক্ষা করে দেখা দরকার সেগুলো আমরা এখানে আলোচনা করছি।

১. যৌনরোগ – আজকাল সমাজে বিবাহ-পূর্ব যৌনসংসর্গ অনেক বেড়ে গেছে। তাই পাত্র-পাত্রী দুজনেরই বিবাহপূর্ব রক্ত পরীক্ষা করে দেখা দরকার তাদের কারও যৌনরোগ রয়েছে কিনা। প্রধান যৌনরোগসমূহ হল এইচ.আই.ভি (যার থেকে AIDS রোগ হয়), এইচ.পি.ভি ভাইরাস সংক্রমণ, সিফিলিস, গনোরিয়া, হার্পস, ট্রিকোমেনিয়াসিস এবং ক্ল্যামিডিয়া। তবে কেবল রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে এইসব রোগের সম্পর্কে জানা নাও যেতে পারে। যৌনরোগ হয়েছে কিনা সেটা সঠিকভাবে জানতে রক্ত পরীক্ষার সাথে সাথে শারীরিক (বিশেষত যৌনাঙ্গ) পরীক্ষাও করে দেখা প্রয়োজন। সেই উদ্দেশ্যে পাত্রীর উচিৎ স্ত্রী-রোগবিশেষজ্ঞের সাথে পরামর্শ করা এবং পাত্রের উচিৎ কোন ইউরোলজিস্টের সাথে পরামর্শ করা। তবে আজকাল কিছু কিছু নামী হাসপাতালে বিবাহপূর্ব মেডিক্যাল পরীক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। সেখানে গেলে একবারেই সমস্ত টেস্ট করে নেওয়া যায়।

data-language="en">

২. থ্যালাসেমিয়া – পাত্র বা পাত্রীর মধ্যে কেউ থ্যালাসেমিয়ার বাহক কিনা সেটা জানতেও বিবাহপূর্ব রক্ত পরীক্ষা জরুরী। বাঙ্গালী সম্প্রদায়ে থ্যালাসেমিয়ার প্রাদূর্ভাব তুলনামূলক বেশি হওয়াতেই এই সতর্কতা। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে থ্যালাসেমিয়ার জিন বহন করলেও কোন ব্যক্তি থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত নাও হতে পারে। এইরকম থ্যালাসেমিয়ার জিন বহনকারী কিন্তু সুস্থ স্ত্রী-পুরুষদের বলা হয় থ্যালাসেমিয়া বাহক (থ্যালাসেমিয়া মাইনর)। থ্যালাসেমিয়া বাহক (থ্যালাসেমিয়া মাইনর) বা আক্রান্ত (থ্যালাসেমিয়া মেজর) স্বামী-স্ত্রীর সন্তানদের থ্যালাসেমিয়া হবে কিনা সে সম্মন্ধে নিম্নলিখিত নিয়মসমূহ সকলের জানা উচিৎ।

(ক) দুজন থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত (থ্যালাসেমিয়া মেজর) ব্যক্তির বিয়ে হলে সন্তানদের থ্যালাসেমিয়া হওয়া নিশ্চিত।

(খ) একজন সুস্থ ব্যক্তির (যার থ্যালাসেমিয়ার জিন নেই বা যিনি থ্যালাসেমিয়ার বাহক নন) সাথে একজন থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত ব্যাক্তির বিয়ে হলে সন্তানেরা সকলেই থ্যালাসেমিয়ার বাহক হবে (থ্যালাসেমিয়া মাইনর), কিন্তু তারা থ্যালাসেমিয়া রোগাক্রান্ত হবে না।

(গ) একজন থ্যালাসেমিয়া বাহকের (মাইনর) সাথে থ্যালাসেমিয়া রোগাক্রান্ত ব্যক্তির (মেজর) বিয়ে হলে সন্তানদের ৫০ শতাংশ সম্ভাবনা থাকে থ্যালাসেমিয়া রোগ হওয়ার। তবে এক্ষেত্রে সুস্থ সন্তানেরাও থ্যালাসেমিয়ার বাহক হবে।

(ঘ) একজন থ্যালাসেমিয়া বাহকের (যার থ্যালাসেমিয়া জিন রয়েছে কিন্তু যিনি রোগাক্রান্ত নন) সাথে একজন সুস্থ ব্যাক্তির (যার থ্যালাসেমিয়ার জিন নেই) বিয়ে হলে সন্তানদের কারও থ্যালাসেমিয়া হবেনা, কিন্তু তাদের মধ্যে ৫০% সম্ভাবনা থাকবে থ্যালাসেমিয়ার জিন বহন করার।

(ঙ) দুজন থ্যালাসেমিয়া বাহকের (থ্যালাসেমিয়া মাইনর) বিয়ে হলে সন্তানদের মধ্যে থ্যালাসেমিয়া হবার সম্ভাবনা ২৫%।

অতএব রক্ত পরীক্ষা করে এটা নিশ্চিত করা প্রয়োজন যেন দুজন থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত ব্যাক্তি (থ্যালাসেমিয়া মেজর) বা দুজন থ্যালাসেমিয়া বাহক (থ্যালাসেমিয়া মাইনর), বা একজন থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত (মেজর) এবং একজন বাহকের (মাইনর) বিয়ে না হয়।

৩. রক্তের Rh ফ্যাক্টর – পাত্র-পাত্রীর রক্তের গ্রুপ যাই হোক না কেন, বিবাহপূর্ব রক্ত পরীক্ষা করে তাদের রক্তের Rh ফ্যাক্টর আলাদা কিনা সেটা জানাও আবশ্যক। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে Rh ফ্যাক্টর হল মূলত লোহিত রক্তকণিকায় অবস্থিত এক ধরনের প্রোটিন। যদি পাত্রীর রক্ত Rh- (নেগেটিভ) এবং পাত্রের রক্ত Rh+ (পজিটিভ) হয় তাহলে সেই পাত্রীর গর্ভস্থ সন্তানের রক্ত Rh+ (পজিটিভ) হতে পারে। সন্তানের Rh+ রক্ত ডেলিভারির সময় বা অন্য কোনভাবে মায়ের রক্তের সাথে মিশে গেলে মায়ের শরীরে সন্তানের এই Rh+ (পজিটিভ) রক্তের বিরূদ্ধে Antibody তৈরি হবে। তবে যেহেতু Antibody তৈরি হতে অনেকটা সময় লাগে তাই প্রথম সন্তানের জন্মে সাধারণত কোন সমস্যা হয় না। কিন্তু দ্বিতীয় বা তার পরের সন্তান জন্মের সময় যদি আবার সন্তানের রক্ত Rh+ (পজিটিভ) হয় তখন আগে থেকেই মায়ের শরীরে অবস্থিত Antibody সন্তানের রক্তকে আক্রমন করে নষ্ট করে দেয়, যার ফলে গর্ভনাশ হয়ে যেতে পারে। সেজন্যে বিয়ের আগে থেকেই পাত্র-পাত্রীর রক্তের Rh ফ্যাক্টর জেনে নেওয়া প্রয়োজন। তবে আজকাল Rh ফ্যাক্টর মেলানো আর তেমন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার নয়। কারণ Rh ফ্যাক্টর না মিললেও প্রথম সন্তানের জন্মে প্রায়ই কোন অসুবিধা হয় না। উপরন্তু এখন নির্দিষ্ট ওষুধ ব্যবহার করে দ্বিতীয় বা তার পরের সন্তানের জন্মের ক্ষেত্রেও সমস্যা এড়ানো যায়।

৪. বীর্য পরীক্ষা – যদিও এটা বিবাহপূর্ব রক্ত পরীক্ষার অংশ নয়, তথাপি বিয়ের আগেই পাত্রের বীর্য পরীক্ষা করে দেখা প্রয়োজন যে সে বাচ্চার জন্ম দিতে সক্ষম কিনা। তবে কোন দম্পতি যদি সন্তান না চায় তাদের ক্ষেত্রে এই টেস্ট আবশ্যক নয়।

৫. হেপাটাইটিস – B – যেহেতু হেপাটাইটিস – বি ভাইরাস যৌনসঙ্গমের মাধ্যমে ছড়াতে পারে তাই পাত্র-পাত্রী উভয়েরই বিয়ের আগে এর জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করে নেওয়া উচিৎ। যদি হেপাটাইটিস – B ধরা পরে তবে বিয়ের আগে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক।

৬. থাইরয়েডের সমস্যা – ইদানীং মেয়েদের অনেকেরই থাইরয়েডের সমস্যা হচ্ছে। থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে সন্তান জন্ম দিতে অসুবিধা হতে পারে। তাই বিবাহপূর্ব রক্ত পরীক্ষা করে নিশ্চিত হোন যে পাত্রীর থাইরয়ডে কোন সমস্যা নেই। যদি সমস্যা থাকে তাহলে উপযুক্ত ঔষধ খেতে আরম্ভ করা উচিৎ। তবে নিয়মিত ঔষধ খেলে থাইরয়েডের সমস্যা গর্ভসঞ্চার ও সন্তান জন্মে বাধা সৃষ্টি করেনা।

এগুলো ছাড়াও চাইলে ডায়াবেটিস, হার্টের সমস্যা, প্রজনন সমস্যা, মৃগীরোগ (epilepsy) ইত্যাদির মূল্যায়ন করে নিতে পারেন। ভালো থাকুন। বিবাহিত জীবনের জন্য শুভেচ্ছা রইল।

তথ্যসূত্র:গুপ্তকথা

data-language="en">

বি:দ্র: আমাদের প্রতিটি লেখার নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুকপেজ-এ লাইক দিন এবং বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন। আপনার মনে কোন প্রশ্ন থাকলে এবং যেকোন বিষয়ে জানতে চাইলে অথবা আপনার কোন লেখা প্রকাশ করতে চাইলে আমাদের ফেসবুক পেজ বিডি লাইফ এ যেয়ে ম্যাসেজ করতে পারেন।

ফেসবুকের হোমপেজে নিয়মিত আপডেট পেতে নিচের লাইক বাটনে ক্লিক করুন

data-language="en">

মন্তব্য করুনঃ

দয়া করে আপনার মন্তব্য লিখুন
দয়া করে আপনার নাম লিখুন

four × 1 =