প্রাপ্তি

22

পেশায় কৃষি বিশেষজ্ঞ অনিকের সঙ্গে খবরের কাগজে বিঙ্গাপন দেখে দেখাশুনো করেই ধুমধাম করে নামী ফাইভ ষ্টার হোটেলে বিয়ে হয়ে মৌসুমির। মৌসুমি কলেজ অধ্যাপিকা। অনিক যেমন উচ্চ বংশের সুর্দশন যুবক তেমনি মৌসুমিও। সামাজিক মর্যদা ও পারিবাবের অর্থনৈতিক দিক থেকে অনিক ও মৌসুমির পরিবার বেশ মর্যাদাসম্পন্ন। অনিক যেমন সুর্দশন হ্যান্ডসাম চেহারার বছর পঁয়ত্রিশের যুবক তেমনি মৌসুমী এখন তিরিশের কাছাকাছি। রুপ চেহারায় অনিক ও মৌসুমি দম্পতিকে ভগবান যেন নিজ হাতে তৈরি করেছেন। অনিক যেমন ফর্সা, লম্বা সুস্বাস্থ্যের অধিকারী তেমনি মৌসুমি চেহারাও যে কোন পুরুষকে পাগল করে দেবে। মৌসুমী কলেজে গেলে টির্চাস রুমে তার সহকর্মী অধ্যাপকরা যেমন মৌসুমি দেখে অন্যমনস্ক হন তেমনি কলেজের বখাটে ছেলেদের কাছে আড্ডার ঠেকে মৌসুমি ম্যাডাম হয়ে ওঠেন আলোচনার বিষয়।

অনিক মৌসুমির বিয়ের তিন বছর পার হয়ে গেলেও কোন সন্তানাদি হয় নি। এতে অনিক মৌসুমির ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজনরা মাঝে মধ্যে রসিকতা করে জানতে চায় তাদের ঘড় আলো করে কবে আসবে তাদেরই মতো ফুটফুটে এক বংশের প্রদীপ। রুপ চেহারায় সামাজিক মর্যদায় অনিক মৌসুমির মধ্যে মিল প্রায় এক হলেও দুই জনের মধ্যে অমিল অনেক। যা বাইরের লোকের চোখে ধরা পড়ে না। অনিক কৃষি বিশেষজ্ঞ। তাঁর চিন্তা ভাবনার জগৎ পেশাগত চাকরী জীবনের বাইরে সারা পৃথিবীজুড়ে। অনিক কৃষি দফতরের পদস্হ আধিকারিক হলেও আর পাঁচজনের মতো রোজকার দশটা পাঁচটা অফিস করেন না। অফিসের অনান্য আধিকারিকরা অফিস ছুটির পর বাড়ী গেলেও অনিক অফিসে বসে কম্পিউটারে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কৃষি ব্যবস্থা নিয়ে পড়াশুনা করে। দিনের পর দিন রাসায়নিক সারের ব্যাপক ব্যাবহার যে কৃষি ব্যবস্হা কে ধংশের দিকে নিয়ে যাচ্ছে এবং কৃষকের উৎপাদিত ফসলই কৃষক সহ সারা দেশের মানুষের খাদ্যে বিষক্রিয়া করে মানুষকে মৃত্যুপথগামী করে তুলছে এসব ভাবিয়ে তুলে অনিককে। সে যেমন প্রাচীন কৃষি ব্যবস্হা কে আবার ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে তেমনি গ্রামাঞ্চলে কৃষকদের মধ্যে কৃষি সেমিনারে বোঝাবার চেষ্টা করে রাসায়নিক সার বর্জন করে জৈব সারের ব্যবহার বারুক। পাশাপাশি অনিক অফিস ছাড়াও বাড়ীতেও সবসময় সব সময় মগ্ন তার গবেষনার বিষয় নিয়ে। অনিক চায় সে কৃষি ব্যবস্হায় একটা পরিবর্তনের জোয়ার আনবে যেখানে দেশের সাধারণ গরিব প্রান্তিক কৃষক সমাজ আর্থিক ভাবে উপকৃত হবে। এবং সারা দেশকে নতুন দিশা দেখাবে।

অনিকের থেকে মৌসুমির চিন্তা ভাবনা আকাস পাতাল ফারাক। মৌসুমি সকালে ঘুম থেকেওঠে ব্রেকফার্স্ট সেরে স্নান করে নিজে ড্রাইভিং করে কলেজে যায়। শহর থেকে দূরে গ্রামাঞ্চলে কলেজ। কলেজে পেড়িয়ে বাড়ী ফিরে চেঞ্জ করে সে মগ্ন টেলিভিশনে হিন্দি সিনেমা দেখতে। পেশাগত জীবনে অধ্যাপনা ছাড়া তার আর চিন্তা ভাবনা নেই। অনিক যেমন আরো জানব শিখব ও তার প্রচেষ্টায় দেশ ও দশ উপকৃত হবে এমন ভাবনায় সে মগ্ন থাকে, কিন্তু মৌসুমি তার ধারে কাছে পৌছিয় না। কলেজ থেকে ফিরে শাড়ী চেঞ্জ করে সে শর্টস ইন্নার পড়ে সোফায় বসে টিভি নিয়ে মগ্ন। মাঝেমধ্যে দামী মোবাইলে বন্ধু বান্ধব দের সঙ্গে হোয়াটস্ আপ, ফেসবুক, ট্যুইটারে ব্যাস্ত । মৌসুমি ভাবে কলেজের চাকরী পাওয়াটাই তার বিশাল পাওয়া। সারাদিনে একটা কি দুটি ক্লাস। মাসের শেষে মোটা টাকার বেতন তার কাছে বিশাল ব্যাপার। বাংলার অধ্যাপিকা হয়েও সাহিত্য চর্চা, দু চারটে প্রবন্ধ লেখা এবং নিজের প্রভিভাকে ছড়িয়ে দেবার ইচ্ছা মানষিকতা কোনওটাই তার নাই। সে ভাবে তার মোটা টাকার চাকরীর বেতন আর ছুটি পেলেই দেশ বিদেশ ঘুড়ে বেড়িয়ে সুখে সময় কাটাবে। জীবনটাকে এভাবেই উপভোগ করবে। অপরুপা সুন্দরী মৌসুমি ভাবে অনিক তার রুপ চেহারায় পাগল হয়ে সব সময় তার আঁচলে মুখ ঢেকে থাকুক। ছুটি পেলেই সীমানা ছাড়িয়ে উইক ইন্ডে বেড়াতে যাবে, রোমান্স করবে। কিন্তু অনিক তো মগ্ন তার কর্ম জীবন আর নতুন করে সৃষ্টির ভাবনা নিয়ে। তার কাছে সুন্দরী স্ত্রী, মোটা টাকার বেতন আর জীবন নিয়ে এখানে ওখানে বেড়িয়ে সময় পাড় করাটা একটা তুচ্ছ বিষয়। মৌসুমির সঙ্গে অনিকের ফারাক সামান্য হলেও অনেক বেশী। অনিক মৌসুমি একই ঘড়ে এক সংসারে থাকলেও এক জন আরেকজন থেকে যেন হাজার মাইল দূরত্বে বসবাস করছে। অনিক তাঁর কর্মজীবন ও গবেষনা নিয়ে এতটাই ব্যাস্ত যে রাতের খাবার খেতেও ভুলে যান। দিন যত যায় দুজনের মানষিক ভাবনার যেমন দূরত্ব বাড়ে তেমনি অনিক মৌসুমির সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়তেও ভুলে যায়। দিন কাটে অফিসের কাজে আর রাত পার হয়ে পড়াশুনো আর কম্পিউটার টেবিলে বসে।

মৌসুমির বয়স ত্রিশ। ভরা যৌবন। যেমন আর্কষনীয় চেহারা তেমনি রুপ। কলেজের ছাত্র থেকে সহকর্মী, রাস্তাঘাটে যারাই দেখবে মৌসুমিকে একবার না তাকিয়ে যাবে না। যেমন আর্কষনীয় মুখের গড়ন তেমনি উঁচু বুক। রঙ যেন ফেটে পড়ছে। মৌসুমির জন্মের সময়ই ঠাকুমা বলতেন, তার মসুকে ভগবান নিজ হাতে বানিয়ে পৃথিবীর বুকে পাঠিয়েছে। এহেন মৌসুমি অবাক অনিক তার মতো রুপবতী নারী পেয়েও তার রুপ যৌবন ভোগ করে না। সে যেমন অবাক হয় তেমনি বিরক্তও হয় অনিকের প্রতি। আবার উচ্চ বংশের শিক্ষিত মেয়ে বলে তাদের দাম্পত্য জীবনের এই সমস্যা কাউকে বলে না। ধৈর্য ধরে, মন কে শান্ত করে। মাঝে মাঝে তার রুপের বন্যা অনিকের সমানে তুলে ধরতে টাইট শর্টস আর স্কীন টাইট ইন্নার পড়ে এসে বসে। এতে অনিক একবার তাকিয়ে দেখে মুচকি হাঁসে। কিন্তু মৌসুমি তার রুপের ঝলক দেখিয়েও অনিককে কাছে টানতে পারে না। শেষে তার উত্তেজনা চরমে উঠলে আর মাথা ঠিক রাখতে পারেনা মৌসুমি। টেনে বিছানায় নিয়ে যায় অনিক কে। চিৎকরে ফেলে তার ডাবের মতো উন্নত স্তন অনিকের মুখে ভরে দিতে উদ্যত হয়ে। মৌসুমি তার সবকিছু ভুলে নিজেই যেন ধর্ষণ করবে স্বামী অনিককে। এতে অনিক বিরক্ত। আমার কাজে ব্যাঘাত ঘটিও না বলে ঠেলে ফেলে দেয় মৌসুমি কে। দুজনেই দুজন একে অপরের প্রতি প্রচন্ড বিরক্ত। একজন তার নিজ গবেষনা আর সৃষ্টির প্রেম নিয়ে ব্যাস্ত আর একজন তার শরীরের কামনা বাসনায় মগ্ন। অনিকের যে যৌবন শক্তি নেই তা নয়, সে যে নপুংসক তাও নয়। তার প্রেম জাগে রাতের শেষ বেলায়। তখন গভীর ঘুমে মগ্ন মৌসুমি। অনিক তার কামনা বাসনা নিয়ে মৌসুমির কাছে যায় মৌসুমি তখন অপ্রস্তুত। তাও আবার সবদিন নয়। বিয়ের পর বছর চার পার হলো কোন সন্তান যেমন মৌসুমির গর্ভে আসেনি তেমনি বিয়ের বছর খানেকের মধ্যেই অনিকের অনিচ্ছা প্রকাশ পায়। তবুও বাকী তিন বছর মৌসুমী পার করেছে স্বামী সোহাগ ছাড়াই। মৌসুমি তার ধৈর্যের সীমা ধরে রাখতে পারে না। ভাবে তার এত রুপ যৌবন তাহলে কার জন্য। স্কুল লাইফ থেকেই মৌসুমিকে প্রেম করার জন্য তার স্কুলের বন্ধুরা হাজারো চেষ্টা করেছে। দেখতে অপরুপা সুন্দরী হওয়াই স্কুল কলেজের শিক্ষকদের কাছেও বেশী প্রিয় পাত্রী ছিলো সে। কলেজে তাকে পাবার জন্য তো ছেলেরা পাগল হয়ে যেতো। কিন্তু বিয়ের আগে কোন ছেলের সাথে শারীরিক সম্পর্ক করা তো দূরের কথা প্রেমও করতো না মৌসুমি। আজকের দিনে যা অবিশ্বাস্য। মৌসুমী ভাবত তার রুপ যৌবন সে একমাত্র তার স্বামী কেই ভোগ করতে দেবে। কিন্তু বিয়ের পর তার উচ্চ শিক্ষিত মোটা বেতনের চাকরী পাওয়া সুর্দশন স্বামী তার কাছে এখন একটা গলার কাঁটা। না পারছে ফেলতে না পারছে তাকে আপন করতে।

অনিক যে মৌসুমিকে ভালোবাসেনা তা নয়। মৌসুমির সামান্য জ্বর হলে তড়িঘড়ি ডাক্তারখানা নিয়ে যাওয়া, নিজে খাইয়ে দেওয়া সবই করে। নিত্য নতুন শাড়ী জিন্স শার্ট সবই শপিং মলে নিয়ে গিয়ে কিনে দেয়। রান্না করা সহ সংসারের কাজকর্ম করার জন্য পৃথক কাজের মাসী আছে। অবস্হাপন্ন বাড়ীতে যা স্বাভাবিক। মৌসুমির অনিকের ফারাক শুধু চিন্তা ভাবনায়। যা দুটি মন, দুটি শরীর কে এক বাড়ীর মধ্যে রেখেও অনেক ব্যবধান তৈরী করেছে। তবুও দুজন রয়েছে দুজনের পাশাপাশি

কলেজের টির্চাস রুমে বসে মোবাইলে ফেসবুক হোয়াটস্ আপ নিয়ে মগ্ন মৌসুমি। এমন সময় হঠাৎ অনিকের ফোন। চমকে উঠল মৌসুমি। কি হলো অনিক ফোন করছে। কেননা এমন সময়ে তো অনিক ফোন করে না। কোন বিপদ আপদ হয় নি তো? নাকি অনিকের মনে হঠাৎ করে মৌসুমির জন্য প্রেম জেগে উঠল। ভাবতে ভাবতে ফোন টা রিসিভ করল মৌসুমী।
ব্যাস্ত আছো ? ফোন করেই বলল অনিক।
না, বলো কি হয়েছে।
বলছি, তোমাকে দিন কয়েক একা থাকতে হবে।
কেন ? কি হয়েছে ? কৌতূহল নিয়ে প্রশ্ন করে মৌসুমি।
না, শোন। আমাকে এগ্রিকালচার এ্যবাউট ফারমার্স এন্ড ফিউচার বিষয়ক এক সেমিনারে দিল্লী যেতে হবে। দু সপ্তাহ ধরে চলবে সেমিনার। ইন্টারন্যাশানাল সেমিনার। আমেরিকা, কানাডা, জাপান, জার্মান, চীন বিভিন্ন দেশ থেকে গবেষকরা আসবেন। সরকার ঐ সেমিনারে যোগ দেবার জন্য আমাকে নোমিনেট করেছে। নেক্সট সানডে সকাল এগারোটাই ফ্লাইট। টিকিটও চলে এসেছে। খুশি আর গর্ব কে মিশিয়ে গড়গড় করে একটানা বলে গেলো অনিক। চোখের পাতা না উল্টে এক দৃষ্টি রেখে কথা গুলো শুনল মৌসুমি। শেষে একটাই কথা, ওকে থ্যাংকস, বেস্ট অফ লাক। এমনভাব দেখিয়ে স্বামী অনিককে কথাটা বলল মৌসুমি যেন সে তার স্বামীর সাফল্যে খুব গর্বিত। অনিক তার দু সপ্তাহের সেমিনারে দিল্লী যাবার কথা শুনে মৌসুমি একরকম ক্লান্ত। তবুও সে তার স্বামী কে থ্যাংকস দেয়, বেস্ট অফ লাক বলে। পাশেই যে তার কলিগরা বসে আছে। স্বামীর সাফল্যে বাহবা তো নিই। ঘড়ের সমস্যা কলেজের টির্চাস রুমে কেন আনবো, ভেবেই বলল মৌসুমি। মৌসুমির কাছে তার স্বামী অনিকের সেমিনারে যোগ দেবার কথা শুনে তার কলিগরাও শুভেচ্ছা জানালেন মৌসুমি কে। কিন্তু মৌসুমির কাছে অনিকের এই সম্মান, এই উন্নতি কোন কিছুই মনে হলো না। তার পরিবর্তে অনিক যদি বলতো চলো চারদিন দার্জিলিং বা গোয়া বেড়িয়ে আসি, তাহলে তখন মৌসুমি ভাবতো তার স্বামী যেন তার জন্য নোবেল পদক এনেছে।

মৌসুমি কে অনিক দিল্লী যাবার কথা জানিয়ে দিয়ে এগ্রিকালচার এ্যবাউট ফারর্মাস এন্ড ফিউচার টপিক নিয়ে মগ্ন হয়ে পড়ল। সে স্বামী হিসেবে তার স্ত্রীর কাছে দিন পনেরো না খাকার কথাটা জানিয়ে দিয়েছে। সে যে তার স্ত্রীর একাকী থাকার কথাটা মনে পড়িয়ে দিয়েছে। আসলে অনিক তো শুধু ব্যাক্তি অনিক কে নিয়ে ব্যাস্ত। অনিক তো মৌসুমির স্বামী অনিকের কথা সে ভাবে ভাবে না।

অনিকের ফোন পাবার পর মৌসুমি ক্লাসে গেলো। কিন্তু পড়াবার মন মানষিকতা কোনওটাই নাই । কোন রকমে চল্লিশ মিনিট পার করে অফিসের ডিপারচার খাতায় সাইন করে নিজ গাড়ী নিয়ে সোজা বাড়ীর পথে। বাড়ী এসে আজ মৌসুমি যেন অনেক ক্লান্ত। অনান্য দিনের মতো আজ আর লিপস্টিক, নেইল পালিস, ফেসওয়াস কোনওটাই ব্যবহার করলো না। বাড়ীর কাজের মাসী মালতির কাছে শুধু এক কাপ চা খেয়ে বিছানায় শুয়ে পড়ল। শুয়ে শুয়ে ভাবছে মৌসুমি অনিক তো বলতে পারতো, তুমিও আমার সঙ্গে দিল্লী চলো, বেড়িয়ে আসবে। প্রিন্সিপাল কে বলে দিন কয়েকের লিভ নাও। তা বললো না অনিক। আর বলবেই বা কেন, সে তো জানে তার সেমিনার আর মৌসুমির এ্যম্বিশিয়ান এক নয়।

অনিক অনেক রাত করে বাড়ী ফিরল। দেখলো মৌসুমি বিছানায় শুয়ে। বিছুটি ব্যাস্ত হয়েই জানতে চাইল, কি হয়েছে। শরীর খারাপ নাকি?
না, কিছুনা, শুয়ে আছি। বলে চুপ রইলো মৌসুমি।
অনিক মৌসুমির পাশে বসল। মৌসুমি দেখল কিন্তু কোন রা শব্দ করলো না, আসলে অনিকের পাশে বসা, কাছে আসা, তার শরীরী চাহিদা মেটানো, মনের বাসনা পূরন করার জন্য তা নয়। বুঝতে পারে মৌসুমি। মৌসুমি জানে তার আপসেট হয়ে থাকাটাও অনিক কে উইক করে তুলে। অনিক ভাবে মৌসুমির শরীর খারাপ হলে তাকেই চিকিৎসা করাতে ডাক্তারখানা নিয়ে যেতে হবে। দৌড়াদৌড়ি করতে হবে। এতে অনিকের গবেষনার কাজ ব্যাহত হবে। এটাই তার অস্বস্তি। তারপর সে এখন দিল্লীতে ইন্টারন্যাশানাল সেমিনারে যেতে ব্যাস্ত এমন সময় মৌসুমির শরীর খারাপ হলে অনিক যে বিরক্ত হবে তা বুঝতে অসুবিধা হয়ে না মৌসুমির। তাই সেও চায় না অনিক কে বিরক্ত করতে। সে বিছানা ছেড়ে ওঠে ডিনার টেবিলে চলে আসে। হাতে ধুয়ে অনিকের সঙ্গে ডিনার সাড়ে।

আজ মৌসুমি রুপ চর্চা করে নি। অনিকের ফোন পাবার পর থেকেই মুড অফ। চুপচাপ শুয়ে পড়ল। এদিকে অনিকের দিল্লী সেমিনারে যাবার ব্যাস্ততা আর মৌসুমি মানষিকতায় দোলাচলে পড়ে। কি যেন আজ আবার নতুন করে অন্যরকম অনিক। ব্রাস করে মুক ধুয়ে বিছানায় এলো। মনে ভয়, মৌসুমির সঙ্গে সেই কবে মিলনে লিপ্ত হয়েছে ক্যালান্ডার দেখেও বলা সম্ভব নয়। মৌসুমি যেদিন তাকে জোর করে বিছানায় আনতে চেয়েছিলো সেদিন অনিক তাকে ঠেলে ফেলে দেয়। সে কথা বারবার মনে পড়ে অনিকের। তারমাঝে ধীরে ধীরে অনিক মৌসুমির কাছে আসে। পায়ের কাছের ফুল ইন্নার নেটের নাইটি তুলে পায়ে কিস করা শুরু করে। ধীরেধীরে উড়ু হয়ে জোৎস্না চাঁদেরর মতো চকচক করা পেটে নাভিতে কিস করে।
মৌসুমি বলে, আজ কি হলো তোমার। গবেষনা করবে না, নেট সার্চ করবে না। এসবের দরকার নাই। আমি ঠিক আছি। মৌসুমির কথা আজ আর কানে যায় না অনিকের। কিছু বলে না। যদি মৌসুমিই আবার তার মতো তাকে ফেলে দেয় তাহলে দুই মন ভেঙ্গে যাবে, তার থেকেও বেশী চিন্তা তার সেমিনারে সে মনোযোগ দিতে পারবে না। স্বামী স্ত্রীর মধ্যে যতই ভুল বুঝাবুঝি মনোমালিন্য থাকুক না কেন, মন কষাকষি করে কেউই মনের মত সুখে থাকতে পারে না। তাই বুদ্ধিমান অনিক আজ ঠিক করে নিয়েছে মৌসুমি তাকে যা বলবে বলুক, যদি এক লাথ মেরেও দেয় সে বাড়ীর পোষা কুকুরের মতো মেনে নিয়ে তার না পাওয়া শরীরে লালসার প্লাবন আনবে। এক মনে মৌসুমির পা থেকে উড়ু, পেট বুক জিভ দিয়ে চাটতে লাগলো। ধীরে ধীরে মৌসুমির সব পোষাক খুলে ফেলল। ধৈর্য্যশীলা মৌসুমি অনেক দিনপর স্বামী অনিককে স্বামীর ভূমিকায় পেয়ে সেও স্ত্রীর মতোই আচরন করল। অনিকের টিশার্ট বারমুডা প্যান্ট খুলে ফেলল। একে উপরের শরীরে চুম্বন আদরে সোহাগে ভরিয়ে দিয়ে গভীর মিলনে লিপ্ত হলো। যে মৌসুম দুপুর থেকে এই কিছুক্ষণ আগেও অনিক-আচরনে ক্লান্ত হয়ে আপসেট ছিলো সে যেন অনিককে স্বামীর মতো পেয়ে স্বস্তির স্বাদ পেলো। তবুও নারী মন, অনেক কিছু পেলেও না পাওয়ার চাহিদা থেকেই থাকে। রাত্রি ন টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তারা প্রেম খেলায় মত্ত রইল। তবু বেশ কয়েকবার মিলনে অনিক ক্লান্ত হলেও মৌসুমি নয়। সে ভাবলো আরো দু একবার হলে সে ক্লান্ত হতো না। অনিক এরাতে মৌসুমিকে আদরে সোহাগে ভরিয়ে তোলায় সকালে বেশ খোস মেজাজে মৌসুমি। তবুও তার মন কেমন যেন করে। অনিক তো আর একদিন পরই দিল্লী চলে যাবে। আজ মৌসুমি কে কলেজে যেতে হবে। অনিককেও অফিস। দুজনেরই স্নান করার সময় হয়ে গেছে। কাজির মাসী মালতি রান্না তৈরি করতে ব্যাস্ত। মৌসুমি অনিককে হাতে ধরে বাথরুমে নিয়ে গেলো। অনিক মৃদু স্বরে বললো কি হয়েছে ?
চলো না আজ দুজনের এক সঙ্গে স্নান করবো। অনেকদিন হলো একসঙ্গে স্নান করা হয় নি।
অনিক অমত করলো না, তবে তার অফিসের তারা আছে বলে বলে উঠল, বেশ চলো তারাতারি করো। লেট হয়ে যাবে।
দুজনেই বাথরুমে ঢুকে সাওয়ার চালিয়ে ভিজতে লাগলো। একে অপরকে জড়িয়ে ধরলো রাতের অনিক যে ভাবে মৌসুমিকে আদরে সোহাগে ভরিয়ে তোলা শুরু করেছিলো, এখন তা শুরু করলো মৌসুমি। অনিকের ঠোটে মুখে কিস করা থেকে শুরু করে ওরাল সেক্স শুরু করলো মৌসুমি। সাওয়ারের ঠান্ডা জলে ভিজেও অনিক মৌসুমির শরীর গরম হয়ে উঠলো। বাথরুমের মেঝেতেই তোয়ালে বিছিয়ে মৌসুমি অনিককে শুইয়ে পুরুষেরর ভূমিকায় মিলনে লিপ্ত হলো। শেষে দুজনের স্নান সেড়ে যে যার অফিসে বেড়িয়ে গেলো। আজ সন্ধ্যাতেই বাড়ী ফিরলো অনিক। জাষ্ট কিছুক্ষণ আগে ফিরেছে মৌসুমি। মৌসুমি ভাবে অনিক বোধহয় পাল্টে গেছে। এবার মনে হয়ে আর আগের মতো হবে না। সন্ধ্যাই অনিক মৌসুমি একসঙ্গে টিফিন করে। অনিক বলো মৌ, আমার লাগেজটা কাইন্ডলি গুছিয়ে দেবে। আমি আমার বই কাগজপত্র আর ল্যাপটপটা গুছিয়ে নিই।
মৌসুমি বললো, ওকে।

রাতের ডিনার সেরে এবার শোবার পালা। কিন্তু অনিক আবার আগের মতোই বাড়ীর কম্পিউটারে বসে পড়ল। মৌসুমি বাথরুম সেড়ে মেকআপ টেবিলে বসে রুপচর্চা করতে ব্যাস্ত। দামী ফেসওয়াস, লিপস্টিক, কপালে টিপ পড়ে ড্রেসিং রুমে গেলো। পিঙ্ক কালারের ব্রা প্যান্টি আর হলুদ নেটের নাইটি পড়ে অনিকের সামনে এলো। প্যান্টি নাভীর নীচে আর ব্রাতে মোটা ডাবের মতো উন্নত স্তন দুটি ছাড়া গোটা শরীর দেখা যায়।
মৌসুমি আলতো করে অনিকের পিঠে হাতে রাখে। মুখ তুলে অনিক মৌসুমির দিকে তাকায়। চোখের ইশারায় মৌসুমি অনিককে ডাকে। অনিক এখন আর মৌসুমির সঙ্গে কোন রকম মিস বিহেভিয়্যার করতে চায় না। কারন কাল তাকে দিল্লী যেতে হবে। দিল্লীর সেমিনারে যোগ দেওয়া তার কাছে বিশাল আনন্দের, শুভ কাজ বলে মনে করে। তাই এই সময় স্ত্রীর সঙ্গে মন কষাকষি হোক তা চায় না, অনিক। তবে কালকের মতো আজ আর সেই ভালোবাসার ইচ্ছা নেই।
ডার্লিং কাল তো অনেক হয়েছে। কালকেই যেতে হবে।বুঝতে পারছো। এস্যানমেন্ট রেডি করতে হবে। প্লিজ….।
মৌসুমি জানে, অনিকের কাছে তার প্রেম, তার ভালোলাগা, তার চাহিদা পূরনের আশা করাটা ভুল। কাল রাতের যা হয়েছে তা কাকতলীয়। অনিক আবার ফিরে গেছে অনিকের জায়গায়। সে আর স্বামী অনিকের জায়গায় কবে আসবে বোঝা দুস্কর ।
চুপচাপ বিছানায় চলে আসে মৌসুমি। হাতে টিভি রিমোট নিয়ে একের পর এক চ্যানেল পাল্টায়। কোন সিনেমা, সিরিয়াল আজ যেন তার ভালো বলে মনে হচ্ছে না। কম্পিউটারে একমনে নিজের অ্যাসাইমেন্ট রেডি করতে ব্যাস্ত অনিক। সেমিনারে লেকচার দিতে হবে। মনের উল্লাস আর চাপা টেনশন মিলেমিশে একাকার অনিকের মধ্যে। মৌসুমি একবার টিভি দেখে, একবার অনিককে। ধীরেধীরে টিভির ভল্যুম বাড়িয়ে দেয় মৌসুমি, যাতে অনিক একবার তাকায়। কিন্তু কোন লাভ হলো না, দেখে মৌসুমি এক মনে তাকিয়ে থাকে টিভির দিকে। চ্যানেল পাল্টাতে পাল্টাতে হঠাৎ মৌসুমির চোখে পড়ে এক বিদেশি ইংলিস চ্যানেলে দুই অসম বয়সী নারী পুরুষের একটা দৃশ্য। বছর চল্লিশের এক সুন্দরী স্বাস্হ্যবতী মহিলা বছর পঁচিশের এক যুবকের সঙ্গে ল্যাপটপে পর্নগ্রাফী ফিল্ম দেখছে, ড্রিংক করছে। আর মাঝে মধ্যে কিস আর হালকা রোমান্স করছে। মৌসুমি যা বাস্তবে স্বামী অনিকের সঙ্গে করতে চেয়েছিলো বিয়ের চার বছর পরও সেভাবে স্বামী অনিককে মর্ডান বয়ফ্রেন্ডের মতো পায় নি, তার মধ্যে হাতের কাছে হ্যান্ডসাম স্বামী কে পেয়েও না পাওয়াই যেন মৌসুমির কাছে অনেক বেশী। তাই টিভির এই রোমাঞ্চকর দৃশ্য মন দিয়ে দেখতে থাকে। রাত্রি বারোটা পেড়িয়ে একটার দিকে ঘড়ের কাঁটা এগোচ্ছে। অনিক এখনও কম্পিউটারে মগ্ন। মৌসুমি রোমান্স দৃশ্য দেখছে, আবার ভল্যুম বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু অনিকের কানে সে শব্দ যায় না। মনের মধ্যে এক গোপন কৃত্রিম অসুখ নিয়েই ঘুমিয়ে পড়ে মৌসুমি।

হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে যায় মৌসুমির। ঘড়ির কাঁটায় পাঁচটা। দেখে অনিক বিছাবার পাশে নগ্ন হয়ে গোপনাঙ্গে তেল মালিশ করছে। একবার দেখেও না দেখার ভান করে পাশ ফিরে শুয়ে পড়ল মৌসুমি। অনিক ধীরেধীরে কাছে এলো, ডোন্ট মাইন্ড মৌসুমি। কাল রাতের খুব টেন্শনে ছিলাম। প্লিজ কাছে এসো।
আমি তো তোমাকে ডিসটার্ব করিনি। বলে মৌসুমি।

না তা নয়, আই এ্যম ভেরি..

বলেই অনিক মৌসুমির উপরে চেপে পড়ল। নেটের নাইটির ফিতে খুলে উন্নত কচি ডাবের মতো দুই স্তনের মাঝে মুখ গুঁজে দিলো। একহাতে জড়িয়ে ধরে অন্যহাত মৌসুমির প্যান্টির ভিতরে হাত ভরে বোলতে লাগলো। সেক্সি মৌসুমি এমনিতেই সারারাত এই রোমান্সের আশাই ছিলো। আশা ছিলো গভীর মিলনের। এখন সকাল হবার মুখে মৌসুমির কাছে অসময়। তবুও খুবই র্মৌসুমি অসময়ের স্বামীর সোহাগ মেনে নিয়ে চুপ থাকে। অনিক এখন তার সঙ্গে যতই গভীর মিলনে আলিঙ্গনে লিপ্ত হোক না কেন, সে তো রাতের মতো তৃপ্তি পাবে না। তবুও অনিকের আলিঙ্গনে সাড়া দেয়। সকাল বেলায় অনিক মৌসুমি মিলন মৌসুমির কাছে ভালো না লাগা আর অনিকের কাছে দায়সাড়া দায়বদ্ধতা।

অনিক বিছানা ছেড়ে স্নান করে রেডি। মৌসুমি নগ্ন হয়েই বিছানায় শুয়ে রইল। শরীরে হালকা একটা বেড কভার চাপিয়ে। ঘড়ির কাঁটা ন টার কাছাকাছি। অনিক বললো, মৌ তুমি তারাতারি ফ্রেস হয়ে এসো। মৌসুমি হালকা মুঁচকি হেঁসে বাথরুমে গেলো, এ হাঁসি যে মৌসুমির মুখে শেষ হাঁসি তা বুঝতে পারল না অনিক মৌসুমি কেউই।

মৌসুমি বাথরুম থেকে ফ্রেস হয়ে এসে টেবিলে বসল। মুখোমুখি বসে বাটার টোষ্ট, ডিম সেদ্ধ, ক্রিম ক্রেকার বিস্কুট, কলা আর দুধ দিয়ে ব্রেক ফার্স্ট সাড়ল দুজনেই।

মৌসুমি আমার লাগেজ রেডি তো ? কালো ব্লেজার টাই সব ঠিকঠাক দিয়েছো তো ?

সব রেডি, তবুও তুমি একবার চেক করে নাও। বলে মৌসুমি ট্রলি ব্যাগটা এনে দিলো। অনিক চেনটা খুলে হালকা করে চোখ বুলিয়ে বললো, ওকে, থ্যাংকস ডার্লিং। বলেই হালকা একটা কিস দিলো মৌসুমির গালে। মৌসুমিও আলতো করে অনিকের গালটা টিপে দিলো।

অনিক ড্রেসিং রুমে গিয়ে দামী প্যান্ট শার্ট পড়ে রেডি। মৌসুমি আমার দুটোর সময় ফ্ল্যাইট। তুমিকি আমাকে সি অফ করতে এয়ারপোর্টে যাবে ? চলো না ডার্লিং বলে মৌসুমি কে জড়িয়ে ধরলো অনিক। মৌসুমি বললো, তুমি তোমার ভালো কাজে যাবে আর আমি যাব না তাই হয় ? বেশ আমি রেডি হয়ে আসছি। জাষ্ট মিনিট কুড়ির মধ্যে মৌসুমি স্নান সেড়ে রেডি। অনিক কে এয়ারপোর্টে সি অফ করাতে যাবে মৌসুমি। আজ তো আর কলেজ নয় যে শাড়ী পড়বে। আর পাঁচটা দিন মৌসুমি বেড়াতে গেলে যে রকম পোষাক পড়ে সেই ভাবেই রেডি। কালো স্কীন টাইট জিন্স আর সাদা টি শার্ট। চোখে সান গ্লাস। বাড়ীর মাসী মালতি কে বললো, তুমি তোমার দাদার ব্যাগ গাড়ীর কাছে পৌছে দাও। ওখানেই দাঁড়াবে। অনিক ব্লেজার টাই পড়ে রেডি। মালতিকে বাড়ীর বাইরে পাঠিয়ে অনিক মৌসুমি কে জড়িয়ে ধরলো। কিস করলো। তারপর বললো, চলো লেট হয়ে যাবে। আজ মৌসুমির গাড়ী ড্রাইভ করেই মৌসুমি কে পাশে বসিয়ে দ্রুত গতিতে বেড়িয়ে গেলো অনিক। এয়ারপোর্ট পৌছে গাড়ীর ভিতরেই দুজন দুজনকে কিস করে। অনিক গাড়ী থেকে নেমে লাগেজ নিয়ে মৌসুমির সঙ্গে হ্যান্ডসেক করে। মৌসুমি বলে, বেশ ডার্লিং যাও, গুড বাই, বেষ্ট অফ লাক।
সেম টু ইউ, বলে অনিক। অনিক ধীরেধীরে চলে গেলো এয়ারপোর্টের ভিতরে। মৌসুমি গাড়ী টা নিয়ে কিছুটা দূরে এসে দাঁড়ালো। একদম চুপ। মুখে কোন কথা নেই। আর কথা কার সঙ্গেইবা বলবে। রাস্তায় হাজার হাজার লোক আনা গোনা করলেও এই বড় পৃথিবী তে সবাই সবার অচেনা অজানা।
মৌসুমি গাড়ী টা আরো একটু দূরে এনে ফাঁকা রাস্তার ধারে দাঁড় করালো। রাস্তার পাশে একদিকে ছোট ছোট চা সিগারেট আর ফুটপাথে ম্যাগাজিন ষ্টল। রাস্তায় আর একপাশে বিশাল ফাঁকা বাগান। অল্প কিছু গাছ। গাছের আড়ালে প্রেমিক প্রেমিকা যুগল কেউ বসে, কেউ কোলে মাথা রেখে শুয়ে কেউবা জড়িয়ে ধরে বসে প্রেম করতে ব্যাস্ত।
মৌসুমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সব দেখছে। স্কুল কলেজে পড়া ছেলে মেয়েরা এ ভাবে প্রেম করছে। শরীর ও মন খোলা মনে মগ্ন। অথচ এই এজটা এই ক’বছর আগে মৌসুমি পেড়িয়ে এসেছে। কিন্তু হাজার ছেলে তাকে পাবার জন্য পাগলের মতো লালায়িত থাকলেও মৌসুমি এভাবে গাছের গোড়ায় বসে কারোর সাথে প্রেম করেনি। এসব দেখতে মৌসুমির যেমন ভালো লাগছে তেমনি মনে মনে ভাবে নিজ রুপ যৌবন আর অনিকের কথা। অনিক তো বিয়ের পর কোনদিন তাকে নিয়ে পার্কে যায়নি। পাশে বসে আদর করেনি। বিয়ের পর ঐ এক দুবার সিনেমা দেখা ছাড়া আর কিছু নয়। তাও আবার মাসতুতো পিসতুতো শালীদের আবদারে।

অনিক কেন এরকম? ভাবতে থাকে মৌসুমি। এই দুদিন একটু আদর সোহাগ করেছে মৌসুমিকে। তাও মন থেকে ভালোবাসা উজার করে দেবার জন্য নয়। মৌসুমি কে সাময়িক ভাবে ভালো রাখতে স্বামী হিসেবে দায়বদ্ধতা থেকেই। কেননা তার দিল্লী যাবার আগে মৌসুমি যেন অনিকের সঙ্গে মানষিক দূরত্ব না বাড়ায়।মৌসুমি অনিকের কথা ভাবতে ভাবতে হঠাৎ মনে পড়ে যায় কাল রাতের ইংলিস চ্যানেলে অসম বয়সী দুই নারী পুরুষের প্রেমালাপ আর ড্রিংক করার দৃশ্য। সে ভাবে পার্কে কলেজ পড়ুয়া ছেলে মেয়েদের প্রেম, টেলিভিশনে অসম যুগলের প্রেম আর তার সাথে অনিকের দাম্পত্য জীবনের টানাপোড়েন। মাথা বিগড়ে যায় মৌসুমির। সময় সময় কোন অভিমান, কোন রাগ, কোন না মেটা চাহিদা এবং চট জলদি সিদ্ধান্ত মানুষের জীবনের মোড় ঘুড়িয়ে দেয়। তা খারাপ বা ভালো যে কোন পথেই যেতে পারে। মৌসুমি এক ব্যাতিক্রমী চরিত্রের মেয়ে। সে অপরুপা সুন্দরী, হ্যান্ডসাম চেহারা, উচ্চ শিক্ষিতা, স্মার্ট। তবুও সে কোনদিন তার রক্ষণশীল পরিবারে, বংশ মর্যদায় হানি করবে এমন কোন কাজ করেনি। অবিবাহিত অবস্হায় কোনদিন কারোর হাত ধরে রাস্তায় ঘুড়েনি। রাত করে বাড়ী ফেরেনি। চেনা জানা বড়দেরকে শ্রদ্ধার চোখে দেখেছে। বিয়ের পর শশুর শাশুড়ি গ্রামের বাড়ীতে থাকলেও নিজের মা বাবার মতো করে খোঁজ রাখে। ছুটিতে মাঝেমধ্যে অনিকের সঙ্গে গেছে। মৌসুমি কে বৌমা হিসেবে পেয়ে অনিকের মা বাবাও যেন নিজেরই মেয়ে মনে করে। কোন দূরত্ব নেই। বিয়ের পর তার প্রতি অনিকের অবহেলা অবলিলায় সহ্য করেছে মৌসুমি। অনিক মৌসুমির সব চাহিদা মেটালেও স্বামী স্ত্রীর যে সম্পর্ক অনিক তাতে অবহেলা দেখিয়েছে। সব কিছুই সহ্য করেছে মৌসুমি। কিন্তু সহ্যেরও একটা সীমা আছে। যে সীমার কোন দূরত্ব দেখা যায় না। কখন তা লঙ্ঘন করবে বোঝাও যায় না।

মৌসুমি গাড়ীতে ওঠে। কিছুটা এগিয়ে রাস্তার ধারে পাশাপাশি চা আর পান সিগারেটের দোকানে দাঁড়ায়। গাড়ী থেকে নেমেই সিগারেটের দোকানে গিয়ে বলে দু প্যাকেট গোল্ড ফিলেক কিং সাইজ সিগারেট দিন তো, আর একটা ম্যাচ বক্স। মৌসুমির কলিগ চ্যাটার্জীদা গোল্ড ফিলেক কিংসাইজ সিগারেট খান, সেটা দেখেই মৌসুমি এই সিগারেটটা জানে। অনিক একসময় সিগারেট খেলেও পরে ছেড়ে দেয়। অনিকের দাদু ক্যানসারে মারা যাবার পরই। মৌসুমি সিগারেট কেনার পর পাশের দোকানে গিয়ে চা খায়। গাড়ীতে ওঠে আরোও কিছুটা এগিয়ে আবার দাঁড়ায়। পার্টস থেকে মোবাইল বেড় করে ফোন করে কলেজের বান্ধবী সায়ন্তীকে। সায়ন্তী একটি বেসরকারি কোম্পানিতে উচ্চ পদে চাকরী করে। সেও মৌসুমির মতোই সুন্দরি। হ্যান্ডসাম। কলেজ লাইফ থেকেই মৌসুমির সঙ্গে তাঁর দারুণ বন্ধুত্ব। সায়ন্তীকে ফোন করার পর সায়ন্তী বলে তুই জাষ্ট মিনিট কুড়ি ওয়েট কর, আমি আসছি। মৌসুমি গাড়ীতে বসে। জীবনে কোনদিন সিগারেট হাতে ধরেনি। গাড়ীতে ওঠে উইন্ড স্ক্রিন তুলে সিগারেট ধরায়। সিগারেট খাওয়ার অভ্যাস তার নেই। একটান দেবার পরই কাশি ওঠে। সামান্য জল মুখে নিয়ে কাশি সামলে আবার সিগারেটে টান দেয়। তবে হালকা করে। জীবনের প্রথম সিগারেট খাচ্ছে। কাশি হচ্ছে। মনে মনে ভাবছে সিগারেট কি এমন, সবাই তো খায়, নাকদিয়ে ধুয়ো বেড় করে। কারোর তো এমন হয় না। সিগারেটও কি অনিকের মতো আমাকে অবহেলা করছে। ভাবতে ভাবতেই সিগারেটে মুখে দেয় মৌসুমি। এমন সময় সায়ন্তীর ফোন। তুই কোথায় ?
আমি এই যে, এটিএমের সামনে। সাদা….
ওকে, দেখেছি। বলে গাড়ীর হর্ণ বাজিয়ে ইন্ডিগেট করে সায়ন্তী ।
গাড়ী থেকে দুজনেই নেমে পড়ে।
কি রে তুই কোথায় গিয়েছিলি, আরজেন্ট কি হলো আমাকে এভাবে ডাকছিস।
সায়ন্তীর কথা শুনল মৌসুমি। কিন্তু উত্তর দিলো না। শুধু বলল, চল তোর চেনাজানা কোন বার কাম রেস্টুরেন্টে। কথা আছে। সেখানে বলব।
সায়ন্তী মৌসুমির কথায় অবাক হলো। বিশেষ করে বার শব্দটি শুনে।
বারে কেন যাবি ? রেস্টুরেন্ট হলেই তো হয়ে। তুই আবার কবে থেকে ড্রিংক করা শুরু করলি ?
সায়ন্তীর কোন কথাকেই আমল দিচ্ছে না মৌসুমি। আসলে যখন যার মনের মধ্যে কোন রাগ ক্ষোভ জন্মায়, তখন সে তার নিজ প্রবাহমান জীবন থেকে বেড়িয়ে অন্যকিছু ভাবে এবং তখন সে বেপরোয়া হয়ে ওঠে। অন্যদের কথায় গুরুত্ব দেয় না। সবাইকে ছোট ভেবে নিজেকে বড় ভাবার প্রবনতা দেখা দেয়। এখানে মৌসুমিও তার ব্যাতিক্রমী নয়। সে সায়ন্তীর কোন কথাকেই আমল দেয়না। এক তরফা বলে যায়। এবং সায়ন্তীকে শুনতে ও তার কথা মানতে বাধ্য করায়।
সায়ন্তী যা বলছি শোন। বেশী প্রশ্ন করিস না। চল কোন একটা বার কাম….
মৌসুমির কথা শেষ না হতেই, মৌসুমির মনের অবস্হা বুঝতে পারে সায়ন্তী। বেশ চল। তুই আমার গাড়ী ফলো কর। বলে সায়ন্তী নিজ গাড়ীতে ওঠে পড়ে। মৌসুমি সায়ন্তীর গাড়ী ফলো করে পিছন পিছন যায়।

সায়ন্তী বুঝতে পারে মৌসুমির কিছু একটা হয়েছে। বড় টেনশনে আছে। দ্রুত গাড়ী চালিয়ে একটা নামী বার কাম রেস্টুরেন্টে গাড়ী দাড় করায় সায়ন্তী। মৌসুমি সায়ন্তীর গাড়ীর পিছনে তার গাড়ী টা রাখে। সায়ন্তী এই বারে আগেও বেশ কয়েকবার এসেছে। কখনো স্বামী নীল কে নিয়ে, আবার কখনো অফিসের কলিগদের সঙ্গে। এই বারে তার সব কিছু জানা। মৌসুমি আগে কোনদিন আসেনি। সায়ন্তীর সঙ্গে আসে। সায়ন্তীকে বলে দেয়, আমি কোনদিন আসিনি, ড্রিংকও করিনি। চল এমন এক জায়গায় বসবি যাতে আমাদেরকে কেউ দেখতে পায়।

মৌসুমির কথা মতো সায়ন্তী বারের গার্ডেন সাইডে যায়। সামনা সামনি দুটি চেয়ার। পাশে সুন্দর কিছু ছোট গাছ। টবে লাগানো। গাছ গুলিই চেয়ারে বসে থাকা দুজনকে দেওয়ালের মতো আড়াল করে রেখেছে।
বল কি খাবি? প্রশ্ন করে সায়ন্তী।
শোন এখন শুধু জাষ্ট দুটো কফি বল। তারপর বলছি। আসলে বারে এসে এখন খাবার থেকে মৌসুমির কথা বলাটাই বেশ জরুরী। বুঝতে পারে সায়ন্তী।
বারের ওয়েটারকে দুটো কফির অর্ডার দিয়ে সায়ন্তী ব্যাগ থেকে সিগারেট বেড় করে। সায়ন্তী বড় মাল্টিন্যাশানাল কোম্পানীতে চাকরী করে। ড্রিংক, স্মোক করা তার সাধারণ ব্যাপার। সায়ন্তী সিগারেট ধরায়। সায়ন্তীর প্যাকেট থেকে ইন্ডিয়া কিংস সিগারেট বেড় করে মৌসুমি ঠোঁটে ধরে। সায়ন্তী মৌসুমির সিগারেট হাতে নেওয়া দেখে অবাক হয়।
তুই কবে থেকে স্মোক করছিস, অয়নতো এসব করে না। অবাক হয়ে জিঙ্গাসা করে সায়ন্তী।
না অয়ন কিছুই করে না। শোন, তুই আমার বোজম ফ্রেন্ড। তোর সাথে কিছু প্রাইভেট ডিসকাস আছে। স্মোক, আমি আজই শুরু করেছি। আর ভাবছি আজ রাতে ড্রিংকও করা শুরু করবো। তবে ড্রিংক এখানে নয়। বাড়ীতে। বলেই, পার্টস থেকে ফোনটা বেড় করে বাড়ীর কাজের মাসী মালতিকে ফোন করে। শোন মালতী আমি সন্ধ্যা সাতটার পর বাড়ী ফিরবো। এখন সায়ন্তীর সঙ্গে আছি। তুমি রাতের জন্য চিকেন আর ব্রেড বানাবে। রাতে ভাত খাবো না। আর তুমি ভাত খেলে তোমার জন্য রান্না করে নিও। ঝরঝর করে কথা গুলো বলে দিয়ে ফোনটা কেটে দিলো। আগের থেকে আজ মৌসুমি কে অনেক আলাদা লাগছে। তার মেন্টালিটি দেখে। রুপ যৌবন মৌসুমির আগের মতো সুন্দর থাকলেও মনের দিক থেকে সে যেন নার্ভাস, অসুস্হ। যে মৌসুমি কে সব সময় হাঁসি খুশি দেখতে অভ্যস্ত সায়ন্তী। এই মৌসুমি যেন সেই মৌসুমি নয়। অবাক দৃষ্টিতে মৌসুমির দিকে তাকিয়ে থাকে সায়ন্তী।
তোর কফি ঠান্ডা হয়ে আসছে। জাষ্ট টেক বলেই সিগারেটে টান দেয় মৌসুমি। তবে হালকা করে, যেন কাশি না এসে যায়।
শোন সায়ন্তী। তুই তো আমাকে, অয়নকে ভালো করেই চিনিস। আমার আর অয়নের মধ্যে একটা সমস্যা চলছে। সমস্যা আই মিন মেনট্যাল গ্যাপ।
আমি এই প্রথম তোকে বলছি। আর কাউকে বলিনি।
কি হয়েছে, খুলে বল।
শোন, আসলে অনিককে নিয়ে এমনিতে কোন সাংসারিক সমস্যা নয়। সমস্যা আমাদের একদমই ইন্টারন্যাল। অনিক সব সময় ওর অফিস আর নিজের রির্সাচ নিয়ে ব্যাস্ত। তুই শুনে অবাক হবে আমার সঙ্গে টানা তিন মাসেরও বেশী হয়ে গেলো ইন্টারকোর্স করেনি। অফিস থেকে ফিরেই চা খেয়ে কম্পিউটার নিয়ে বসে পড়ে। ডিনার কোন দিন একসাথে করে, আবার কোনদিন তুমি খেয়ে নাও বলে রাত বারোটা। তুই তো জানিস, আমার এত রুপ যৌবন। কলেজের বন্ধু থেকে সিনিয়র দাদারা আমাকে পাবার জন্য পাগলের মতো ঘুরঘুর করতো। কারোর সঙ্গে কোনদিন প্রেম করিনি। ফিজিক্যাল রিলেশন তো দূরের কথা। তুই বল, আমি কি আর নিজেকে কন্ট্রোল রাখতে পারি ?
তুই অনিককে সব কথা খুলে বল। ওর এই এ্যটিচ্যুডটা ভালো লাগছে না। বলে সায়ন্তী।
– না রে, বলে কোন লাভ হয় নি। রাত্রিতে অনিক যখন কম্পিউটার নিয়ে বসে আমি মেকআপ করে শুধু ব্রা প্যান্টি আবার কোনদিন নেটের ইন্নার, নাইট গাউন পরে ওর সামনে দাঁড়ায়। ওর পিঠে আমার স্তন বুলিয়ে সেক্স ওঠানোর চেষ্টা করি। তবুও ওর ইচ্ছা জাগে না। জানিস ও যখন শুয়েপড়ে আমি ওর প্যান্ট খুলে ওরাল সেক্স পর্যন্ত শুরু করি তবুও ওর থেকে সাড়া পায় না। বলে, আজ খুব টায়ার্ড, ছাড়ো ভাল্লাগেনা। এভাবে কি বেঁচে থাকা যায় ?

অনিক এখন কোথায়?

দিল্লী গেছে সেমিনারে। দু সপ্তাহ থাকবে।

কবে গেলো?

আজ ই। বেলা দুটোর ফ্লাইটে। আমিই সেন্ড অফ করে এলাম। ওকে এয়ারপোর্টে ছেড়ে তোকে ফোন করলাম।
এটা নিয়ে খুব একটা চিন্তা করিস না। ডাক্তারের সাথে ডিসকাস করতে হবে। প্রয়োজন হলে কাউন্সিলিং করাতে হবে। বলে মৌসুমিকে স্বান্তনা দেয় সায়ন্তী।
না রে, কোন কিছুতেই কিছু হবে বলে মনে হয়ে না। ওর প্রবেলম অন্য জায়গায়। ওর মধ্যে যে সেক্সুয়াল প্রবেলম আছে তা নয়। ও উইক নয়। জানিস, এই লাষ্ট দুদিন আমার সাথে দারুণ ভাবে সেক্স এনজয় করেছে। ওরাল সেক্স, বাথরুম সেক্স কোন কিছুই বাদ যায় নি। ও দিল্লী চলে যাবে। আমি যদি অভিমান করি, হয়তো সেই ভয় থেকেই দুদিন ভালো ভাবে আমাকে নিয়েই কাটিয়েছে। ওর প্রবেলম টা হলো, ও শুধু নিজের লাইফে নাম কামাতে চায়, নিজের প্রফেশন নিয়েই থাকতে চায়। ওর সাবজেক্ট নিয়েই রিসার্চে মগ্ন। সারাদিন অফিস আর বাড়ী ফিরে কম্পিউটার নিয়ে ব্যাস্ত। সংসার, সেক্স, নেক্সট জেনারেশন এসব ওর মাথায় নেই। অনিক যে আমাকে অবহেলা করে তাও নয়। আমার শরীর খারাপ হলে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায়। ঔষুধ আনা সব করে। আমার এত রুপ যৌবন তবুও অনিকের কাছে আমি যেন ভালো না লাগার পাত্রী।
শোন এসব নিয়ে কিছু ভাবিস না। সব ঠিক হয়ে যাবে। কিছুদিন ধৈর্য ধর। আর আমিও ভেবে দেখি হাউ টু সল্ভ ইওর প্রবেলম। মৌসুমি কে স্বান্তনা দেয় সায়ন্তী।
না রে আমার ভালো লাগে না। এটা দু একদিনের ব্যাপার নয়। আড়াই তিন বছর ধরে এই প্রবেলম ফেস করছি। শুধু তুই কেন, কাউকে বলিনি তাই। তুই বল আড়াই তিন বছর সময়টা কি কম .?

বেশ টেনশন করিস না। আমি দেখছি। প্রবেলম যখন হয়েছে সল্ভও হবে। কি খাবি বল। আমার খেতে কিছু ভালো লাগে না। তুই যা খাবি খা। শোন তুই তো ড্রিংক করিস, আমাকে নামী ব্রান্ডের ওয়াইন বলে দে। দুটি বোটল কিনে বাড়ী নিয়ে যাবো।
সায়ন্তী মৌসুমির মনের অবস্হা বুঝতে পারে। সায়ন্তীর কাছে মদ খাওয়া নরমাল বিষয়। কথা না বাড়িয়ে, ওয়েটারকে ডাকে। নিজের জন্য একটা বিয়ার আর মৌসুমির জন্য চাউমিন অর্ডার দেয়। সঙ্গে নামী ব্রান্ডের দুটি ওয়াইন পার্সেল করে দিতে বলে। সায়ন্তী বিয়ারটা শুধু খেয়ে নেয়। মৌসুমি কে চাউমিন দিয়ে বলে এই ওয়াইন টা জল বা সোডাওয়াটার মিক্সড করে গ্লাসে ঢেলে খাবি। বিয়ারের মতো খাস না। সায়ন্তী জানে মৌসুমি কোনদিন ড্রিংক করেনি। তাই সে ওয়াইন খাবার নিয়মও বলে দেয়।
রেস্টুরেন্টেরর পেমেন্ট মৌসুমি দিতে গেলেও মৌসুমির ওয়াইন সহ বিল পে করে সায়ন্তী।
রেস্টুরেন্ট থেকে বেড়িয়ে গাড়ীর কাছে দাঁড়ায়। দুজনেই সিগারেট ধরায়। ঠিক আছে সাবধানে বাড়ী যা। সায়ন্তী মৌসুমিকে শ্বান্তনা দিয়ে বলে। মৌসুমি গাড়ী স্টার্ট দিয়ে ওকে বাই বলে বেড়িয়ে যায়। সায়ন্তীও।
মৌসুমি কিছুটা এসে আবার দাঁড়ায়। ড্রিংক করার জন্য দোকান থেকে কয়েক প্যাকেট চিপস, সোডাওয়াটার, মিনারেল ওয়াটার কিনে নেয়। গাড়ীতে যেতে যেতে আবার ভাবে কাল রাতের ইংলিস চ্যানেলে দেখা অসমবয়সী দুই নারী পুরুষের প্রেমালাপ আর রোমান্সের দৃশ্য। মাথার মধ্যে হঠাৎ মনে পড়ে যায় বিয়ের পর অনিকের সঙ্গে ইন্টারনেটে পর্নগ্রাফী ফিল্ম দেখার কথা। প্রথম প্রথম অনিক মৌসুমি প্রতিদিন রাতের একরকম নিয়ম করে পর্নগ্রাফী ফিল্ম দেখতো। তারপর অনিক কম্পিউটার নিয়ে নিজের রির্সাচ করতে গিয়ে পর্নগ্রাফী দেখা বন্ধ করে। মৌসুমি অনিকের সঙ্গে টানাপোড়নের সম্পর্ক আর অতীতের রোমান্স নিয়ে ভাবতে ভাবতে বাড়ী এসে যায়। গাড়ী গ্যারেজে পার্ক করে রুমে আসে। মালতি অনেকদিন ধরে অনিকের বাড়ীতে আছে। সে কোনদিন অনিককে মদ খেতে দেখেনি। ওয়াইনের বোতল মালতি দেখলে তার লজ্জা লাগবে। মালতি কাজের মেয়ে হলেও অনিক ও মৌসুমি তাকে সম্মান করে। সম্মানের ভয়ে মৌসুম লুকিয়ে ওয়াইনের বোতল দুটি রাখে। বাথরুমে ফ্রেস হয়ে মৌসুমি চেঞ্জ করে মালতিকে চা করতে বলে। এমন সময় অনিকের ফোন। কখন বাড়ী এলে?
একটু মিথ্যা করেই মৌসুমি বলে, সন্ধ্যার আগেই এসেছি। তুমি ঠিকঠাক পৌছে গেছো তো? কোন অসুবিধে হয় নি তো ?
না আমার কোন অসুবিধে হয় নি।এয়ারপোর্টে গাড়ী গিয়েছিলো আমাকে রিসিভ করতে। ওরা হোটেলে নিয়ে এলো। ফাইভ ষ্টার হোটেল। খুব ভালো আছি। তুমি খেয়ে নাও। বেশী রাত করো না। অনিক মৌসুমি একে অপরের খোঁজখবর নিলেও মৌসুমি অনিকের উপর খুব একটা ইমপ্রেস নয়। অনিককে তার ভালো ভাবে পৌছানোর কথা জিঙ্গাসা করলেও মৌসুমির মন অনিক থেকে বহুদূরে।

মালতি মৌসুমিকে চা এনে দেয়। মৌসুমি আজ অনিকের কম্পিউটারে বসে। অনেকদিন হলো অনিক মৌসুমি পাশাপাশি বসে এই কম্পিউটারে পর্নগ্রাফী দেখেছে। সেদিনের দেখা ছিলো মনের আনন্দে। আজ আবার সাইট ঘেঁটে মৌসুমি অনিককে ছাড়াই পর্নগ্রাফী দেখার জন্য ভুলে যাওয়া সাইট ঘাঁটছে। তবে নিরানন্দে। মৌসুমি ঠিক করে এখন শুধু সাইটটা খুলে মিনিমাইজ করে রেখে দেবে। রাতের টেবিলে ডিনার করবে, ড্রিংক করবে আর পর্নগ্রাফী দেখবে। এখন মালতি এসে যেতে পারে।

মালতিকে ডেকে বলে, আমার খাবারটা দিয়ে যাও। রাতে আমার কাজ আছে। আমি সময় মতো খেয়ে শুয়ে পড়ব। তুমি খেয়ে নিও। আমাকে ডাকার দরকার নেই। মালতি মৌসুমির কথা মতো চিকেন হাতে বানানো রুটি বেডরুমে দিয়ে যায়। মালতি বেশী রাত জাগে না। মৌসুমির খাবার দিয়ে নিজে খেয়ে শুয়ে পড়ে।

মৌসুমি নিজের রুমে দরজা ভালো করে লাগিয়ে মেকআপ করে, পিঙ্ক ব্রা প্যান্টি পড়ে কম্পিউটার টেবিলে বসে। মনে মনে ভাবে অনিকের সামনেও সে এভাবে বসেছে। তার রুপের ঝলকে অনিককে পাগল করতে চেয়েছে। চেয়েছে নিজের যৌবন জ্বালা অনিকের নোনা জলে মেটাবে। কিন্তু অনিকের মানষিকতা আর মৌসুমির চাওয়া পাওঢার মাঝে হাজার ব্যবধান মৌসুমি কে অস্হির করে তুলেছে। আজ অনিক কাছে নেই। তার রুপ যৌবন লালসা সব আছে। মৌসুমি নিজের যৌবন জ্বালা নিজেরই প্রচেষ্টায় মেটাতে চায়। সে কম্পিউটারে পর্ন সাইট খুলে পর্নগ্রাফী ফিল্ম দেখা শুরু করে। বেডরুমে বসে চিকেন রুটি আর গ্লাসে ওয়াইন ঢেলে খায়। জীবনে প্রথম সিগারেট, প্রথম ড্রিংক। গলা জ্বালা মুখে বিশ্রী একটা স্বাদ লাগলেও আস্তে আস্তে তাও পান করে। শরীর উত্তপ্ত হতে থাকে। মৌসুমি আজ একপ্রকার বেপড়োয়া। অনেক সাহসী। মোবাইলে ফেসবুক খুলে ফ্রেন্ড লিষ্ট সার্চ করে। খোলে হোয়াটস্ আপ। মৌসুমি আজ সায়ন্তীকে অনেক কথা বলেছে। কিন্তু সব বলেনি। মোবাইলে অনেক পরিচিত বন্ধুর নাম দেখছে। কিন্তু সে একটা কথা একজনকে বলতে চায়, যে কথাটা সায়ন্তীকে বলে নি।
হ্যাঁ পেয়ে যায় এক পরিচিতকে। কাল রাতের ইংলিস চ্যানেলে যে অসমবয়সী প্রেমালাপ দেখেছে, দেখেছে রোমান্স আর ড্রিংক করা। সেই রোমান্সের সঙ্গে নিজেকে মেলাতে যায়। তার মনেরবাসনা মেটাতে যাকে ফোন করবে তার আগে অনিককে ফোন করে। অনিকের ফোন বেজে যায়। রিসিভ করে না। মৌসুমি দুবার ট্রাই করে রেখে দেয়। পর্নগ্রাফী দেখে আর ড্রিংক করে। অনিক রিং ব্যাক করে। বলে কি করছো, খাওয়া হলো এসব জিঙ্গাসা করে অনিক। মৌসুমিও অনিককে একই কথা বলে। দুদিন আগে অনিক যেমন মৌসুমিকে আদর সোহাগ করেছে প্রেমের টানে নয়, দায়সাড়া দায়বদ্ধতা থেকে তেমনি মৌসুমি অনিককে ফোন করে ওই রকমই দায়সাড়া ভাবে। যাতে অনিক বলতে না পারে মৌসুমি তার খোঁজ রাখে নি। তাছাড়া মৌসুমি তার পরিচিত একজনকে ফোন করবে সেই সময় অনিক যেন ফোন না করে। অনিকের মুখ বন্ধ করতে মৌসুমি অনিককে আগেই ফোন না করে। যাতে অনিক ফোন করে বলতে না পারে কোথায় ফোন করছিলে ওয়েটিং আসছে।

এরপর ড্রিংক করতে করতে মৌসুমি ফোন করে সায়ন কে। সায়ন মৌসুমির জামাই বাবু। মৌসুমির বর্দি অনুপমা বছর চারেক আগে জন্ডিসে মারা যায়। তার দুটি কিডনি অচল হয়ে যায়। এরপর মৌসুমি ড্রিংক করতে করতে ফোন করে সায়ন কে। সায়ন মৌসুমির জামাই বাবু। বছর চারেক আগে মৌসুমির একমাত্র দিদি অনুপমা জন্ডিসে মারা যায়। তার দুটি কিডনিই অচল হয়ে পড়ে। কলকাতা চেন্নাই মুম্বাই সব জায়গায় নামী হাসপাতালে বহু টাকা খরচ করেও অনুপমা কে বাঁচাতে পারেনি সায়ন। অনুপমা একটি গার্লস স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা ছিলেন। মাত্র আটত্রিশ বছর বয়সেই মারা যায় অনুপমা। অনুপমার একমাত্র মেয়ে তিলোত্তমা থাকে মৌসুমির বাবার কাছে। সে ক্লাস নাইনে পড়ে। প্রায় বছর তিনেক ধরে মৌসুমির সঙ্গে সায়নের যোগাযোগ নেই। মৌসুমি বিয়ের পর থেকে স্বামী অনিক আর ব্যাক্তিগত জীবনকে নিয়ে ব্যাস্ত থেকেছে। সায়নও মৌসুমিরর সঙ্গে যোগাযোগ রাখে নি। অনুপমা মারা যাবার পর সায়ন চেয়েছিলো মৌসুমি কে বিয়ে করতে। সে পেশায় ডাক্তার। সায়নের আশা ছিলো মৌসুমি যদি তাকে বিয়ে করে তাহলে তাদের একমাত্র মেয়ে তিলোত্তমা মাসীকে মায়ের জায়গায় পেয়ে ভালো থাকবে। সায়নের এই ইচ্ছায় মত ছিলো মৌসুমির বাবা সুমন বাবুরও। কিন্তু তার তুলনায় বয়সে বেশ বড়, সে কলেজে অধ্যাপিকার চাকরী পেয়েছে এই দুয়ের টানাপোড়ন থেকে সায়নকে বিয়ে করতে রাজি হয়নি মৌসুমি। সুমনবাবুও মৌসুমির ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করেন নি। তবে, সায়ন যে আবার বিয়ে করবে, তার আদরের নাতনি তিলোত্তমাকে সৎ মা নিজ মেয়ের মতো দেখবে কিনা এই চিন্তা থেকেই সায়নের সঙ্গে বোঝাপড়া করেই নাতনি তিলোত্তমাকে নিজের কাছে রেখে দেন সুমন বাবু। মা হারা মেয়েটিকে মেয়ের অভাব মেটাতে না পারলেও কোন কিছুই অভাব দেন না মৌসুমির বাবা সুমন বাবু।

মৌসুমি ফোন বেজে যায় সায়নের মোবাইলে। সায়ন প্রথমেই আননোন নাম্বার বলে রিসিভ করে না। আবার ফোন করে মৌসুম। সায়ন রিসিভ করে। ও প্রান্তে হ্যালো বলার আগেই মৌসুমি কাতর কন্ঠে বলে, কেমন আছো সায়নদা ?
খুব ব্যাস্ত নাকি?
আননোন নাম্বার হলেও সায়ন বুঝতে পারে মৌসুম কে।
তবুও জিঙ্গাসার সুরে বলে কে মৌসুমী ? কেমন আছো?
দীর্ঘ আড়াই তিন বছরপর শালী জামাই বাবু যোগাযোগ হওয়াই দুজনেই কথা বলে মন থেকে এক অন্য অনুভূতি অনুভব করে। পার্থক্য শুধু সায়ন তার হাসপাতালের কলিগকে বিয়ে করে সুখে সংসার করছে। আর মৌসুমি স্বামী পেয়েও এক স্বামী হারার অসুখে ভূগছে। মৌসুমি নানা কথা জিঙ্গাসা করার পর সায়নের কাছে জানতে চায় সে বিয়ে করেছে কিনা। কি করে তার বউ, কেমন দেখতে ইত্যাদি। সায়ন বুঝতে পারে মৌসুমি তাকে নতুন করে পেতে চায়। কিন্তু যে পাখি একদিন নিজ থেকে মৌসুমির ফাঁদে ধরা দিতে চেয়েছিলো সে পাখি আজ সীমানা ছাড়িয়ে বহুদূরে। মৌসুমি অন্য পুরুষের কন্ঠ পেয়ে উত্তেজিত হয়। মদ বোতল থেকে গ্লাস ভরে ঢালে। সঙ্গে সামনের টেবিলে কম্পিউটারে পর্নগ্রাফী ফিল্ম তাকে পাগল করে তুলেছে। কিন্তু সায়ন রাতের হাসপাতালে ডিউটি করা অবস্হায় কথা বেশী বলতে পারে না। তার বলার ইচ্ছাও নেই। কেননা সেও মৌসুমির মতোই অপরুপা সুন্দরি তার চিকিৎসক সহকর্মী পৌলমীকে বিয়ে করে খুব সুখী। সায়ন ভাবে মৌসুমি তাকে ইগনোর করলেও তার চিকিৎসক বান্ধবী পৌলমী নিজে আনমেরেড হয়েও এক মেয়ের বাবাকে বিয়ে করেছে। দুজনেই সুখে সংসার করছে। পৌলমী যদি জানতে পারে সায়ন তার প্রথম পক্ষের শালীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে তাহলে সুখের সংসারে অশান্তির আগুন লাগবে। পৌলমীও জানে সায়নের শালী মৌসুমিও খুব সুন্দরী এক নারী। সায়ন নিজ সংসারের সুখের কথা ভেবে মৌসুমির সঙ্গে বেশী কথা না বলে হাসপাতালে ব্যাস্ত থাকার উজুহাতে ফোন রেখে দেয়।

এদিকে মৌসুমি ধীরে ধীরে তার শরীরের পোষাক খুলে ফেলে। ওয়াইন আর পর্নগ্রাফী তে পাগল হয়ে ওঠে। ড্রিংক করে বেসামাল হয়ে বিছানায় নেশাগ্রস্ত হয়েই ঘুমিয়ে পড়ে।
সকালে ঘুম থেকে ওঠে বাথরুমে ব্রাস করতে গিয়েই বমি। তারাতারি ছুটে আসে কাজের মাসী। মৌসুমির বমি হচ্ছে দেখে মাসী মনে মনে খুশী। খুশী ভাবও প্রকাশ করে ফেলে মাসী। বলেই ফেলে বৌদি মনি এতো খুশির খবর। আমাদের ঘড়ে বাবুসোনা আসবে। চাঁদেরকণার মতো ঘড়কে আলো করবে বৌদি। চিন্তা করো না, এখন একটু আধটু এরকম হবে। অল্প শিক্ষিত মানুষ যেমন কিছু না বোঝার আগেই কিছু বলে দেয় সেরকমই বলে ফেলল মাসী।
মাসী ভেবেছে মৌসুমি প্রেগনেন্ট, তাই তার বমি হচ্ছে। তাই সে খুশি। কিন্তু মৌসুমি মাসীর কথায় কোনো রিঅ্যাক্ট করে না। সে তো বুঝতে পারছে তার বমি হবার কাবন। মৌসুমি আগে কোনদিন ড্রিংক করেনি। হঠাৎ ড্রিংক করায় অ্যাসিড হয়ে গেছে। কোন রকমে হাতে মুখ ধুয়ে বেডরুমে এসে বসে। মাসীকে বলে, মাসী চা খাব না, লেবু সরবৎ করে দাও। আধঘন্টার মধ্যে আবার বমি শুরু হয়। মাসী ছুটে আসে। মাসীর কিছু বলার আগেই মৌসুমি বলে ফেলে, মাসী তুমি যা ভাবছো তা নয়। আসলে আমার শরীর খারাপ। কাল অনেক রাত জেগেছি। গ্যাস হয়ে গেছে। তাই বমি হচ্ছে।

তুমি একটা কাজ করো মাসী ডাক্তার মিঃ বসুর কাছে যাও উনি ঔষুধ লিখে দেবেন তুমি কিনে আনবে।
এই বলে মৌসুমি একটা কাগজে তার বমি হচ্ছে। রাতে ড্রিংক স্মোক করেছে ইংরেজিতে লিখে দিয়ে মাসীর হাতে হাজার খানেক টাকা ধরিয়ে ডাক্তার মিঃ বসুর কাছে পাঠিয়ে দেয়। মৌসুমি শরীরটা বেশ গরম লাগছে দেখে বাথরুমে ঢুকে সাওয়ার চালিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে। হালকা সাবান মেখে ড্রেস চেঞ্জ করে শুয়ে পড়ে। বিছানায় এসে দেখে মোবাইলে দুটি মিসড্ কল। ভাবে অনিক করেছে। কিন্তু দেখা যায় বাবা সুমন বাবুর ফোন। রিং ব্যাক করে মৌসুমি।
হ্যাঁ বাবা বলো,কেমন আছো ?

ভালো আছিরে মা, তুই কেমন আছিস? ফোন বেজে যাচ্ছিল রিসিভ করলি না, ব্যাস্ত নাকি ?
না, বাবা। শরীর টা বেশ ভালো নায়। অ্যাসিডিটি হয়েছে। সকালে দুবার বোমটিং হলো।
ডাক্তারের কাছে যা লেট করিস না, অনিক কে বল নিয়ে যাবে। বললো বাবা।
বাবা অনিক নেই, কালই দিল্লী গেছে ওর একটা সেমিনার আছে। বাবা তুমি ফোন না করলেও আমি করতাম। অনিক দিন পনেরো দিল্লীতে থাকবে, আমি মাঝে একবার তোমার কাছে যাব। দিন দুই থেকে আসব। কলেজ থেকে ছুটি নেব। তিলোত্তমাকেও দেখে আসা হবে। একটু সুস্থ হই তারপর যাব।

জামাই বাড়ীতে নেই। তারপর মেয়ের শরীর খারাপ। বাবার মন ঠিক থাকতে পারে না। তাছাড়া মৌসুমির বাড়ীতে সেরকম কোন উপযুক্ত কেউ নেই যে সুমন বাবু নিশ্চিন্তে থাকতে পারে।
তাই বেশী না ভেবেই বলে, শোন তুই আজই চলে আয়। নিজের কারে আসতে হবে না। তোর তো ড্রাইভার নেই, ট্রেনে চলে আয়।
বাবা, তুমি চিন্তা করো না। আমি ঠিক সুস্থ হয়ে উঠবো। দুদিন পরই যাবো।
তুমি ভালো থেকো।
বেশ তাহলে ট্রিটমেন্ট করা। কেমন আছিস জানাবি। বলে ফোন রেখে দেয় মৌসুমির বাবা সুমন বাবু।

সুমন বাবুর স্ত্রী বছর দশেক আগেই মারা যায়। তারপর বড় মেয়ে অনুপমাও মারা যায়। অনুপমার মৃত্যুর পর থেকেই মৌসুমির উপর আদর মায়া বেশী হয়ে ওঠে সুমন বাবুর। বড় মেয়ের অভাব মেটানোর চেষ্টা করেন ছোট মেয়েকে স্নেহ ভালোবাসার মাধ্যমে।
মেয়ের সামান্য অসুস্হ্যতার খবর পেয়েই বিচলিত হয়ে পড়ে বাবার মন। যে যাকে যত ভালোবাসে তার কষ্টতে সেও তত বেশী কষ্ট পায়। অস্হির হয়ে পড়েন বাবা সুমন বাবু।

ডাকেন মহিম কে। মহিম সুমন বাবুর বাড়ীর তেতলায় ভাড়া থাকে। মহিমের আসল নাম মহিমুর রহমান। মৌসুমির বাবা সুমন সহ তার বন্ধু বান্ধবরা মিলে একটি স্কুল করেছেন। শিশু নার্সারি থেকে উচ্চ মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত পড়াশুনো হয়। কো-এড। স্টুডেন্টস সাড়ে চারশোর মতো। মহিম এই স্কুলের নন একাডেমিক সেকশনের প্রধান। তার কাজ স্কুলের ডেভেলপমেন্ট সেকশন দেখাশুনো করা। স্কুলের ডেভেলপমেন্টের কাজে লাখ লাখ টাকা মহিমের মাধ্যমে খরচ হয়। হিসেবে নিকেশ পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখে। সবার কাছে বিশ্বাসী, অতি ভদ্র ছেলে। মহিমের সততা ও ভদ্রতা দেখে সুমন বাবু তার বাড়ীতে থাকার ব্যাবস্হা করে দিয়েছে। বাড়ী ভাড়া নিলেও মাত্র হাজার টাকা। মাঝেমধ্যে মহিম সুমন বাবুর বাড়ীতে খাওয়া দাওয়াও করে। মহিম গ্রামের ছেলে। তার বাবা স্কুল শিক্ষক ছিলেন। মহিমরা তিন ভাই দুই বোন। বোনেদের বিয়ে হয়ে গেছে। দুই দাদার মধ্যে বড়দাদা স্কুল শিক্ষক ও ছোট ভাই ব্লকে চাকরি করে। মহিম স্কুল লাইফ থেকেই পড়াশুনো করার পাশাপাশি ক্লাব, খেলাধুলো নিয়ে মত্ত থেকেছে। কলেজ লাইফ শেষ করে নিজ এনজিও প্রতিষ্ঠা করে সমাজসেবামূলক কাজকর্ম করে। গ্রামের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান মসজিদের উন্নয়নমূলক কাজকর্ম করত। পাশাপাশি একাধিক পত্র পত্রিকায় লেখালেখি করা অভ্যাস আছে। মহিম নিজ এলাকায় সমাজসেবামূলক কাজ করে বেশ জনপ্রিয়। তবে সমাজের ভালো কাজ করলেও আত্মকেন্দ্রিক সমাজব্যবস্থা মহিমকে আপন করতে পারেনি। তার দুই ভাই সরকারী চাকরি করে। বোনেদের ভালো ঘড়ে বিয়ে হয়েছে। মহিম কোন সরকারী চাকরি পায় নি বলে তার মতো ভালো ঘড়ে বিয়ের ব্যবস্হা করতে পারেনি মহিমের বাবা। মহিমের ছোট ভাই সরকারী চাকরী করে বলে মেজ ভাই থাকতে ছোট ভাইয়ের বিয়ের জন্য পাত্রী পক্ষ আগবাড়িয়ে এসেছে। যা মহিমের কাছে খুবই আত্মসম্মানে লাগার মতো। মহিম মনে মনে ভেবেছে কি এই সমাজ, স্বভাব চরিত্র ভালো এরকম পাত্র মেয়ের বাবারা আজ দেখে না। দেখে শুধু ছেলের চাকরি, মোটা টাকা রোজ।

লেখাটি পাঠিয়েছেনঃ মহিউদ্দীন আহমেদ

বি:দ্র: আমাদের প্রতিটি লেখার নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুকপেজ-এ লাইক দিন এবং বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন। আপনার মনে কোন প্রশ্ন থাকলে এবং যেকোন বিষয়ে জানতে চাইলে অথবা আপনার কোন লেখা প্রকাশ করতে চাইলে আমাদের ফেসবুক পেজ বিডি লাইফ এ যেয়ে ম্যাসেজ করতে পারেন।

ফেসবুকের হোমপেজে নিয়মিত আপডেট পেতে নিচের লাইক বাটনে ক্লিক করুন

মন্তব্য করুনঃ

দয়া করে আপনার মন্তব্য লিখুন
দয়া করে আপনার নাম লিখুন

twelve − two =