যৌনাঙ্গ

নারীদের অনেকেই সামান্য অসুখেই (যেমন- মাথাব্যথা, বদহজম) ডাক্তারের কাছে দৌঁড়ান। তবে আজকের দিনেও এমন নারীও আছেন যারা ডাক্তারের কাছে লজ্জা পান, বিব্রত বোধ করেন। আসলে মেয়েলি নানা সমস্যায় বড় ধরণের কিছু না ঘটলে তারা ডাক্তারের কাছে যেতে চান না।

তবে এখন সময় বদলেছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে মানুষের মধ্যে সচেতনতাও। তারপরও কিছু নারী সমস্যা গুরুতর পর্যায়ে না পৌঁছা পর্যন্ত ডাক্তারের কাছে যেতেই চান না। অথচ প্রত্যেক নারীর জানা উচিত যে, যৌনাঙ্গ বা প্রজনন অঙ্গগুলো দেহের অন্যান্য অঙ্গের মতোই এবং প্রয়োজনে এ বিষয়ে চিকিৎসা সেবা নিতে লজ্জাবোধ করার কোনো কারণ নেই।

এ ছাড়া এখন অনেক নারী গাইনোকোলজিস্ট (মহিলা প্রজনন অঙ্গ সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ) ডাক্তার আছেন যারা স্বাস্থ্য সম্পর্কিত নানা সমস্যা সমাধানে আপনাকে সাহায্য করতে পারেন। স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের মতে, এমন কিছু অভ্যাস আছে যেগুলো নারীদের সবসময় এড়িয়ে চলা উচিত, তা না হলে তাদের প্রজনন স্বাস্থ্যের ক্ষতি হতে পারে।

এক্ষেত্রে লাইফস্টাইল বিষয়ক ওয়েবসাইট বোল্ডস্কাই ডটকম অবলম্বনে জেনে নিন কোন অভ্যাসগুলো নারীদের এড়িয়ে চলা উচিত-

নিজেই চিকিৎসক হয়ে যাওয়া

প্রজনন অঙ্গে কোনো সমস্যা দেখা দিলে অনেক নারী ইন্টারনেট থেকে সমস্যাগুলো জেনে নেওয়ার চেষ্টা করেন। যদি আপনি মেডিকেল বিশেষজ্ঞ না হয়ে থাকেন তাহলে লক্ষণগুলো সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে পারবেন না। কাজেই সমস্যা সমাধানে আপনার একজন গাইনি বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়া দরকার। তা না হলে বড় সমস্যায় বিশেষ করে ক্যান্সারে জড়িয়ে পড়তে পারেন।

নিরাপদ সেক্স অনুশীলন না করা

অপ্রত্যাশিত গর্ভধারণ এবং যৌন রোগ এড়াতে প্রত্যেক নারীর নিরাপদ সেক্স অনুশীলন করা জরুরি। এক্ষেত্রে কনডমের ব্যবহার এবং নিয়মিত যৌন রোগ সংক্রান্ত পরীক্ষা আপনার সঙ্গীকে যৌন রোগ থেকে নিরাপদে রাখবে।

যৌনভাবে সক্রিয় থাকা পর্যন্ত অপেক্ষা

অনেক নারী এখনও বিশ্বাস করেন, শুধু সমস্যা হলেই যৌন বা প্রজনন সংক্রান্ত বিষয়গুলো জানার জন্য একজন গাইনি বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়া উচিত। এটা ভুল ধারণা। যৌনভাবে সক্রিয় থাকা পর্যন্ত অপেক্ষা না করে প্রত্যেক নারীকেই সমস্যাগুলো জানার জন্য ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত।

চিকিৎসার তথ্য গোপন

প্রজনন স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিস্তারিত তথ্য ডাক্তারের কাছে প্রকাশ না করার অভ্যাসও ভালো নয়। কাজেই একজন গাইনি বিশেষজ্ঞের কাছে আপনার চিকিৎসা সংক্রান্ত সব তথ্য খুলে বলা উচিত। কখনও কখনও স্বাস্থ্যের ভিন্ন ভিন্ন অবস্থাও যৌনাঙ্গের নানা সমস্যার জন্য দায়ী। উদাহরণস্বরূপ- যোনির শুষ্কতা এবং যৌন রোগের কারণে আপনার উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিস হতে পারে।

বিস্তারিত শেয়ার না করা

বিব্রত বোধ করার কারণে অনেক নারী ডাক্তারের কাছে স্ত্রীরোগ সংক্রান্ত সমস্যাগুলো কথা খুলে বলেন না। এতে ডাক্তাররাও সঠিক রোগ ধরতে পারেন না। ফলে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হয়। কাজেই ডাক্তারের কাছে সব খুলে বলা উচিত।

সার্ভিকাল ক্যান্সারের পরীক্ষা এড়িয়ে চলা

সবচেয়ে সাধারণ ধরণের ক্যান্সারগুলোর মধ্যে একটি হলো সার্ভিকাল ক্যান্সার। প্রতিবছর বিশ্বে হাজার হাজার নারী এই ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়। স্বাভাবিকভাবে অতিরিক্ত স্রাব এবং যোনিতে সমস্যা ছাড়া সার্ভিকাল ক্যান্সারের তেমন কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। কাজেই এসব লক্ষণ দেখা দিলেই একজন বিশেষজ্ঞের কাছে যান।

ডাচিং এড়িয়ে চলুন

ডাচিং হলো স্প্রে বা তরল কিছু দিয়ে যোনি পরিষ্কার করার প্রক্রিয়া। এসব পণ্যে নানা ধরণের কেমিক্যাল বিদ্যমান থাকে, যা যোনির পিএইচ ব্যালেন্সে প্রভাব ফেলে। এর ফলে ওই এলাকার ত্বকেও সমস্যার সৃষ্টি হয়। কাজেই ডাচিং করা একেবারেই এড়িয়ে চলুন।

প্রেমেস্ট্রমাল সিন্ড্রোম এড়িয়ে চলা

নারীদের পিরিয়ডের দুই সপ্তাহ আগে যেসব প্রেমেস্ট্রমাল সিন্ড্রোম (পিএমএস) যেমন- স্তনে পরিবর্তন, তলপেটে ব্যথা, মেজাজে পরিবর্তন প্রভৃতি নারীদের কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। এতে সমস্যা আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে। কখনও কখনও তা প্রজনন অঙ্গে প্রভাব ফেলতে পারে।

বি:দ্র: আমাদের প্রতিটি লেখার নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুকপেজ-এ লাইক দিন এবং বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন। আপনার মনে কোন প্রশ্ন থাকলে এবং যেকোন বিষয়ে জানতে চাইলে অথবা আপনার কোন লেখা প্রকাশ করতে চাইলে আমাদের ফেসবুক পেজ বিডি লাইফ এ যেয়ে ম্যাসেজ করতে পারেন।

ফেসবুকের হোমপেজে নিয়মিত আপডেট পেতে নিচের লাইক বাটনে ক্লিক করুন

⇒ লেখাটি ভালো লাগলে প্লিজ বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবেন। শেয়ার করতে √ এখানে ক্লিক করুন

আপনার ফেসবুক একাউন্ট থেকে খুব সহজেই কমেন্ট করুন

মন্তব্য করুনঃ

দয়া করে আপনার মন্তব্য লিখুন
দয়া করে আপনার নাম লিখুন

ten + 2 =