জিরা পানি

জিরা পানি শরীরে তাপ উৎপাদন করে। প্রতিদিন এক চা-চামচ জিরার বিচি পানিতে সেদ্ধ করে পান করুন। জিরা পানি খেতেও যেমন টেস্টি তেমনি ওজনও কমায়।  রান্না করা খাবারে জিরার ব্যবহার হয়েই থাকে। মূলত রান্নায় স্বাদ আনতেই ব্যবহার করা হয় জিরা। কিন্তু এই জিরারও আরও বহু গুণ রয়েছে। তবে রান্নায় নয়, জিরা মেশানো পানিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন, ভিটামিন, অ্যান্টি-কার্সিনোজেনিক প্রপাটিজ, কার্বোহাইড্রেট, মিনারেল এবং নানা সব উপকারি ফ্যাটি অ্যাসিড, যা নানাভাবে শরীরের উপকারে লেগে থাকে।।

দুই চা-চামচ জিরা এক গ্লাস পানিতে গরম করে ছেঁকে উষ্ণ গরম অবস্থায় মধু দিয়ে খেয়ে নিন খালি পেটে। ওজন কমাতে জিরা পানির উপকারিতা অনেক।

জিরা ভেজানো পানির অসাধারণ উপকারিতা: 

১. হজমে সহায়ক: জিরায় আছে থাইমল। থাইমল খাবার হজমে সহায়তা করে। তাই নিয়মিত জিরা পানি পান করলে অ্যাসিডিটির সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এছাড়াও গর্ভকালীন হজম এবং গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূর করতে জুরি নেই জিরা পানির।

২. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়: আয়রন এবং ডায়েটারি ফাইবারের উৎস জিরা। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ঠিক রাখার জন্য নিয়মিত জিরা পানি পান করা জরুরী। জিরা পানি পান করলে অনেক অসুখ থেকেই দূরে থাকা সম্ভব।

৩. ডায়াবেটিস এ উপকারী: তাদের ডায়াবেটিস আছে তাদের নিয়মিত জিরা পানি পান করা উচিত। কারণ প্রতিদিন খালি পেটে জিরা পানি পান করলে রক্তের চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে থাকে।

৪. মেদ কম করে :  নিয়মিত জিরা পানি খেলে অতিরিক্ত ওজন এবং মেদ কমবে

৫. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে: জিরা পানিতে প্রচুর পটাশিয়াম আছে। রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং অতিরিক্ত লবণের ক্ষতিকর প্রভাব কাটাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে পটাশিয়াম প্রয়োজন। তাই নিয়মিত জিরা পানি খাওয়ার অভ্যাস করলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে।

৬. এনার্জি বাড়ায়: একটু কাজেই ক্লান্তি লাগে? এই সমস্যায় জিরা পানি দারুণ উপকারী। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে জিরা পানি পান করলে প্রচুর কর্মশক্তি পাওয়া যায়।

৭. লিভার ভাল রাখে: জিরা পানি শরীর থেকে বিষাক্ত উপাদান বের করতে করতে সহায়তা করে। তাই লিভার ভাল রাখতে এবং ফ্যাটি লিভারের সমস্যায় জিরা পানি খুবই উপকারী।
রক্তস্বল্পতা দূর করে: জিরায় প্রচুর পরিমাণে আয়রন আছে। তাই নিয়মিত জিরা পানি পানে হিমোগ্লোবিন বাড়ে। যারা রক্তস্বল্পতার সমস্যায় ভোগেন তাদের জন্য জিরা পানি খুব উপকারী।

৮. পিরিয়ডের ব্যথা কমায়: পিরিয়ডের সময় অনেক নারীই তলপেটে ব্যথা অনুভব করেন। অসহ্যকর এই ব্যথা দূর কতে জিরা পানি বেশ কার্যকরী ভূমিকা রাখে। অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি গুণাগুণের কারণে পিরিয়ডের মাসল ক্র্যাম্প বেশ দ্রুত কমে যায় জিরা পানি পানে।

৯. ত্বক ভাল রাখে: তারুণ্য ধরে রাখতে জিরা পানির জুড়ি নেই। এছাড়াও ফুসকুড়ি, ব্রণ ইত্যাদি সমস্যা সমাধানেও জিরা পানি উপকারী। কারণ নিয়মিত জিরা পানি পানে শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বের হয়ে যায়। ফলে ত্বকের উপর বিষাক্ত উপাদানগুলো প্রভাব ফেলতে পারেনা। জিরা পানির সঙ্গে সামান্য হলুদ মিশিয়ে খেলে ত্বক উজ্জ্বল হয়।

১০. চুলের যত্নে জিরা পানি: জিরা পানিতে আছে প্রচুর পুষ্টি উপাদান। তাই চুলের গোঁড়া থেকে পুষ্টির জোগান দিয়ে চুলকে ঝলমলে করে তোলে জিরা পানি। এছাড়াও নিয়মিত জিরা পানি পান করলে চুল পড়া বন্ধ হয়।

সূত্র- ইন্টারনেট

বি:দ্র: প্রতিটি লেখার নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুকপেজ-এ লাইক দিন এবং বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে পারেন। যেকোন বিষয়ে জানতে চাইলে এবং আপনার কোন লেখা প্রকাশ করতে চাইলে আমাদের ফেসবুক পেজ বিডি লাইফ এ যেয়ে ম্যাসেজ করতে পারেন।

খবরগুলো আপনার ফেসবুক হোমপেজে নিয়মিত আপডেট পেতে লাইক করুন