আপনি আপনার গার্লফ্রেণ্ড-কে বিয়ে করবেন?

112
শেয়ার করুনঃ

সবাইকেই বলছি, মোবাইল ফোন আসাতে এখন আমাদের শতকরা ৯৫ জন বন্ধুদের-ই গার্লফ্রেণ্ড আছে। কিন্তু কতজন বলতে পারবেন? অনেকেই হয়তো বলবেন আমি করব। কিন্তু বাস্তবতা কি একটু মিলিয়ে দেখেছেন? কিভাবে আপনি আপনার মনের মানুষটিকে বিয়ে করবেন?

বাস্তবতা হল, এই ওয়েবসাইটের বেশিরভাগ ইউজার-ই পুরুষ এবং তাদের বয়স ১৮ থেকে ৩৫। বর্তমান বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে, আপনি এই বয়সে কি নিজের পায়ে দাড়াতে পেরেছেন? যা’হোক, এবার মূল কথায় আসি।

এখানে যারা প্রেমিক বা প্রেমিকা আছেন; আমি জানি, তারা বেশিরভাগ-ই সমবয়সি। সমবয়সি প্রেমিক/প্রেমিকার মধ্যে সমস্যা হল, আপনারা একটু ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করুন। আমি ধরে নিলাম, আপনি একটা ছেলে, আর আপনার বয়স ২২ বছর। আপনি কোন একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। আপনি একজন মেয়েকে ভালবাসেন এবং আপনারা সমসয়সি বা সে আপনার জুনিয়র। ধরলাম তার বয়স ২০. এখন দেখুন বাস্তবতা কোথায়। আপনাকে নিজের পায়ে দাড়াতে প্রায় এখনও ৩ থেকে ৪ বছর সময় লাগবে। তার থেকে বেশি সময়-ও লাগতে পারে। কিন্তু এই ৪ বছর কি আপনাদের প্রেম টিকে থাকবে? বা এই ৪ বছরের মধ্যে আপনার মনের মানুষটির কোথাও বিয়ে হয়ে যাবে না? একজন বেকার ছেলেকে একটা মেয়ে কেন বিয়ে করবে? এই সময়ের মধ্যে যদি আপনার মনের মানুষটির বিয়ে হয়ে যায়, তবে আপনি তাকে বলবেন স্বার্থপর। বলবেন মেয়েরা সব সময়েই নিজের কথা চিন্তা করে। তারা স্বার্থের জন্য মনের মানুষটিকে ভুলে যায়।

এবার কি বুঝতে পারছেন, কেন মেয়েরা ছেলেদের ছেকা দেয়? কারন, মেয়েদের বয়স যখনই ১৮ বছর হয়ে যায়, মেয়েদের বাবা-মা ঠিক তখন থেকেই মেয়েদের জন্য বিয়ের পাত্রী দেখতে শুরু করে। কিন্তু মনে মনেই খুজতে থাকে, মেয়েকে কিছুই বুঝতে দেয় না। ২২ বছর বয়স হলেই মেয়েদের বিয়ে হয়ে যায়। কিন্তু সবার ক্ষেত্রে এরকম হয় না। এর ব্যতিক্রমটাও দেখা যায়। কিন্তু বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে এটাই স্বাভাবিক।

কিন্তু একটা ছেলের কথা চিন্তা করুন, ছেলেটা যতদিন নিজের পায়ে দাড়াতে না পারে, ততদিন পর্যন্ত সে সহজে বিয়ে করতে চায় না। এখন প্রশ্ন হল। আপনার প্রেমিকা কিভাবে তার পরিবার, বাবা, মা’কে ম্যানেজ করবে? কিভাবে সে বিয়ে করা থেকে পিছিয়ে থাকবে? একটু গভীর ভাবে চিন্তা করে দেখেছেন কি? এবার আসুন মেনে নিলাম আপনার প্রেমিক বা প্রেমিকা আপনার জন্য অপেক্ষা করছে প্রায় ৪ বছর। এই চার বছরের সম্পর্ক-টা কি নিস্পাপ থাকবে? বর্তমানের প্রেক্ষাপটে সম্পর্কটা যা’ই হোক, দৈহিক সম্পর্কটা-কেই বড় করে দেখা হয়। আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে অবশ্যই কোন অবৈধ সম্পর্কের সৃষ্টি করবে। আমি এটাও মেনে নিলাম, কারন আপনারা একে অন্যকে ভালবাসেন এবং আপনারা একে অন্যের জন্য অপেক্ষা করছেন। কিন্তু দেখেন, এখানে কিন্তু দু’জনার পরিবার জড়িত। ধরলাম ছেলে মেয়েকে আর মেয়ে ছেলেকে পছন্দ করে। মেয়ের পরিবার-ও ছেলেকে পছন্দ করে কিন্তু ছেলের পরিবার বা মেয়ের পরিবার ছেলেটিকে বা মেয়েটিকে অন্য কোন মেয়ে বা ছেলের সাথে জোড় করে বিয়ে দিয়ে দিল। এখন কি সেই নতুন মেয়ে বা ছেলেটার সাথে ছেলে বা মেয়েটা নিজের মনের মানুষের মত করে মিশতে পারবে? কি দোষ এই মেয়েটার বা এই নতুন ছেলেটার? কি অধিকারে আপনারা আপনাদের মনের মানুষটিকে এবং আপনার সহধর্মীনীকে ধোকা দিলেন?

যদি ছেলেটা অন্য কোথাও বিয়ে করে তবে দোষ দিবেন, ফুলের মধু খাওয়ার পর ছেলেটি ফুলটিকে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে, আর যদি মেয়েটা অন্য কোথাও বিয়ে করে, তবে দোষ দিবেন, মেয়েরা তাদের স্বার্থের জন্য ছেলেদের ব্যবহার করে এবং ব্যবহার শেষে ছুড়ে ফেলে দেয়।

এবার আরও একটি কথা। আমার জানা মতে ঢাকাতে এমন অনেক ছেলে ও মেয়ে আছেন, যারা নিজেদের ক্লাশফ্রেণ্ড-দের সাথে দৈহিক সম্পর্ক সৃষ্টি করেন।কিন্তু তাদের সম্পর্ক কোন সময়েই বিয়েতে গড়াবে না, এটা ছেলেও জানে, আবার মেয়েও জানে (আমি ব্যক্তিগত ভাবে চিনি এমন কিছু ছেলে ও মেয়েকে, এজন্যই বললাম)। কিন্তু যেসব ছেলে বা মেয়ে এরকম সম্পর্ক তৈরী করছেন, কি অধিকারে আপনি আপনার ভবিষ্যৎ স্বামী অথবা স্ত্রীকে ধোকা দিচ্ছেন? বিয়ের পর যখন আপনাদের মধুর সময় আসবে, তখন কি আপনার বুকে সেই আগের স্মৃতি ভেষে উঠবে না? আপনার বুক কাপবে না? খেয়াল রাখবেন, চরিত্র এমন একটা জিনিস, যা একবার হারিয়ে ফেললে আর কোন কিছুর বিনিময়ে সেটা আর পাওয়া সম্ভব না। বিশ্বাস একবার যদি ভেঙ্গে যায়, তবে আর জোড়া লাগে না। অনেক কষ্টে যদিও জোড়া লাগানোর চেষ্টা করবেন, তার মাঝে একটা দাগ থেকেই যাবে। যা ভবিষ্যতের খুব সামান্য্ ছোয়াতেই ভেঙ্গে যাবে।

প্লিজ এমনটি করবেন না। আমার নানুভাই একটা কথা বলেন, যদি কাওর উপকার করতে না পার, তবে কোন মানুষের কোন ক্ষতি করো না। প্লিজ, কাউকে নিজে জেনে শুনে ধোকা দিবেন না। যেই কাজটা করছেন, সেটা একটু ভেবে দেখুন।

তাই বলছি, যখন কাউকে ভালবাসবেন, একটু ভেবে দেখুন, সেই সম্পর্ক কোথায় এগিয়ে যাবে। ফেসবুক, রেডিও, দৈনিক পত্রিকা, টেলিভিশন-এ সব সময়েই দেখা যায় এই ধরনের সমস্যার কথা। আপনারা সমাধান চান। আসলে ভালবাসা কখনও বলে আসে না। এই কথাটা অনেকেই বলবেন। কিন্তু তার ভবিষ্যত কি? প্লিজ এটা একটু ভেবে দেখুন। সম্পর্ক সৃষ্টি করার আগেই মিলিয়ে নিন আপনার ভবিষ্যত আর আপনার মনের মানুষের ভবিষ্যত।

এতক্ষন যেই কথাগুলো বললাম, অধিকাংশ মানুষ-ই আমার সাথে কিন্তু একমত হবেন না, কিন্তু যারা ছেকা খেয়েছেন, তারা আমার সাথে ঠিকই একমত হবেন। কারন ভালবাসা হারানোর যে কি যন্ত্রনা, সেটা যে হারায়, সে-ই বলতে পারবে। অনেকেই এই জন্য নেশার আশ্রয় নেয়, নিজেকে শেষ করে দেয়। প্লিজ, এটা করবেন না। কারন এর জন্য দায়ী আপনি। আপনি এই সম্পর্ক করার আগে একটুও ভেবে দেখেননি।

তাই বন্ধুরা, প্লিজ আপনারা একটু ভেবে দেখুন আমার কথাগুলো, আর দৈহিক সম্পর্কের আগেও আমার কথাগুলো একটু ভেবে দেখুন, আমি কি বলেছি। আপনার পরিবারের কথা একটু চিন্তা করুন। কারন হারিয়ে গেলে আর ফিরে পাবেন না। বাবা-মায়ের জন্য একটু বিষর্জন দিন। যদি ভুল বলে থাকি, তবে মাফ করে দিবেন। ভবিষ্যতে আরও এই ধরনের কয়েকটি পোস্ট দিব। এজন্য আপনাদের কমেন্ট আশা করছি। ধন্যবাদ।

বি:দ্র: আমাদের প্রতিটি লেখার নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুকপেজ-এ লাইক দিন এবং বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন। আপনার মনে কোন প্রশ্ন থাকলে এবং যেকোন বিষয়ে জানতে চাইলে অথবা আপনার কোন লেখা প্রকাশ করতে চাইলে আমাদের ফেসবুক পেজ বিডি লাইফ এ যেয়ে ম্যাসেজ করতে পারেন।

ফেসবুকের হোমপেজে নিয়মিত আপডেট পেতে নিচের লাইক বাটনে ক্লিক করুন

⇒ লেখাটি ভালো লাগলে প্লিজ বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবেন। শেয়ার করতে √ এখানে ক্লিক করুন

আপনার ফেসবুক একাউন্ট থেকে খুব সহজেই কমেন্ট করুন

মন্তব্য করুনঃ

দয়া করে আপনার মন্তব্য লিখুন
দয়া করে আপনার নাম লিখুন

1 × 1 =