নিমের বহুবিধ ব্যবহার

নিমের ঔষধি গুণ সম্পর্কে কম বেশি আমরা সবাই জানি। মাথার ত্বকের র‍্যাশ, চুলকানি, খুশকি ও নতুন চুল গজাতে নিমের তেল বেশ কার্যকর। তবে অনেকেই নিমের অয়েল মাথার তালুতে সরাসরি ব্যবহার করে থাকেন। নিমের তেল সরাসরি মাথার তালুতে ব্যবহার না করে প্যাকের সাথে মিশিয়ে ব্যবহার করুন, এতে আরও ভাল ফল পাওয়া যাবে। এমন কিছু নিমের তেলের হেয়ার প্যাক নিয়ে আজকের এই ফিচার।

১। নতুন চুল গজাতে –
আধা কাপ নারকেল তেল, এক টেবিল চামচ নিম অয়েল এবং দশ ফোঁটা বাদাম তেল। সবগুলো উপাদান একসাথে মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণ অল্প আঁচে দুই মিনিট জ্বাল দিন। কুসুম গরম অবস্থায় এটি মাথার তালুতে ম্যাসাজ করে লাগান। এটি চুলে এক ঘন্টায় রাখুন। তারপর শ্যাম্পু করে ফেলুন।

২। খুশকি দূর করতে –
এক টেবিল চামচ আমলকির গুঁড়ো, এক টেবিল চামচ মেথির গুঁড়ো, দশ ফোঁটা নিমের অয়েল এবং এক চা চামচ লেবুর রস একসাথে মেশান। মিশ্রণটি মাথায় ভাল করে লাগিয়ে রাখুন। এক ঘন্টা পর শ্যাম্পু করে ফেলুন। এই প্যাকটি সপ্তাহে দুইবার ব্যবহার করুন। এটি নিয়মিত ব্যবহারে চুল থেকে খুশকি দূর হয়ে যাবে।

৩। উকুন দূর করতে –
উকুনের যন্ত্রণা বেশ বিরক্তকর। এই সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে নিমের অয়েল। মাথায় নিমের অয়েল ম্যাসাজ করুন। এভাবে সারারাত থাকুন। পরের দিন সকালে একটি চিকন দাঁতের চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ান। দেখবেন উকুন চলে আসছে। নিমের তেল মাথার তালুতে কোন বিরুপ প্রভাব ফেলবে না।

৪। মাথার তালু চুলকানি রোধে –
এক টেবিল চামচ অলিভ অয়েলের সাথে চার পাঁচ ফোঁটা নিমের তেল মেশান। এই তেলের মিশ্রণটি মাথার তালুতে ৫ মিনিট ম্যাসাজ করুন। ১৫-২০ মিনিট পর শ্যাম্পু করে ফেলুন।

৫। চুল কন্ডিশন করতে –
একটি ডিমের সাদা অংশের সাথে বিশ ফোঁটা নিমের অয়েল ভাল করে মেশান। এই মিশ্রণটি চুলে ব্যবহার করুন। ঘন্টাখানিক পর শ্যাম্পু করে ফেলুন। এটি চুল স্বাস্থ্যজ্বল ঝলমলে করে তোলে।

৬। কৃমিনাশক-
শিশুদের পেটে কৃমি নির্মূল করতে। শিশুরাই বেশি কৃমির শিকার হয়। এ জন্য ৫০ মিলিগ্রাম পরিমাণ নিম গাছের মূলের ছালের গুড়া দিন ৩ বার সামান্য গরম পানি সহ খেতে হবে।

৭। ঠান্ডাজনিত বুকের ব্যথা–
অনেক সময় বুকে কফ জমে বুক ব্যথা করে। এ জন্য ৩০ ফোটা নিম পাতার রস সামান্য গরম পানিতে মিশিয়ে দিতে ৩/৪ বার খেলে বুকের ব্যথা কমবে। গর্ভবতীদের জন্য ঔষধটি নিষেধ।

৮। ডায়াবেটিস রোগ-
সকালে খালি পেটে ৫টি গোলমরিচ ও ১০টি নিম পাতা বেটে খেলে তা ডায়াবেটিস কমাতে সাহায্য করে।

৯। খোস পাচড়া বা চুলকানি-
নিম পাতা সিদ্ধ করে সেই পানি দিয়ে গোসল করলে খোসপাচড়া চলে যায়। পাতা বা ফুল বেটে গায়ে কয়েকদিন লাগালে চুলকানি ভালো হয়।

১০। অজীর্ণ-
অনেকদিন ধরে পেটে অসুখ? পাতলা পায়খানা হলে ৩০ ফোটা নিম পাতার রস, এক কাপ পানির ৪/১ ভাগ পানির সঙ্গে মিশিয়ে সকাল-বিকাল খাওয়ালে উপকার পাওয়া যাবে।

১১। পোকা-মাকড়ের কামড়-
পোকা মাকড় কামড় দিলে বা হুল ফোঁটালে নিমের মূলের ছাল বা পাতা বেটে ক্ষত স্থানে লাগালে ব্যথা উপশম হবে।

১২। দাতের রোগ-
নিমের পাতা ও ছালের গুড়া কিংবা নিমের ডাল দিয়ে নিয়মিত দাত মাজলে দাঁত হবে মজবুত, রক্ষা পাবেন দন্ত রোগ থেকেও।

১৩। ত্বকের যত্নে-
নিমের তেল মুখে ব্যবহার করলে ব্রন হয় না।

১৪। জন্ডিস-
জন্ডিস হলে প্রতিদিন সকালে বাচ্চাদের জন্য ৫-১১ ফোঁটা,বয়স্কদের জন্য ১ চামচ নিম পাতার রস একটু মধু মিশিয়ে খালি পেটে খেতে হবে।

আমাদের চারপাশেই ছড়িয়ে আছে প্রকৃতির অসাধারণ সব উপাদান। ওষুধের কৃত্রিমতার ওপরে নির্ভরশীল না হয়ে, সুস্থ থাকবার জন্য প্রাকৃতিক উপায় গুলোর প্রতি মনযোগী হয়ে উঠুন। যার অল্প একটু ব্যবহারই প্রতিদিন থাকবেন সুস্থ-সতেজ ও রোগ মুক্ত।

নিমের এই গুনাগুনের কথা বিবেচনা করেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ‌ নিমকে ‘একুশ শতকের বৃক্ষ’ বলে ঘোষনা করেছে।

বি:দ্র: আমাদের প্রতিটি লেখার নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুকপেজ-এ লাইক দিন এবং বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন। আপনার মনে কোন প্রশ্ন থাকলে এবং যেকোন বিষয়ে জানতে চাইলে অথবা আপনার কোন লেখা প্রকাশ করতে চাইলে আমাদের ফেসবুক পেজ বিডি লাইফ এ যেয়ে ম্যাসেজ করতে পারেন।

ফেসবুকের হোমপেজে নিয়মিত আপডেট পেতে নিচের লাইক বাটনে ক্লিক করুন

⇒ লেখাটি ভালো লাগলে প্লিজ বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবেন। শেয়ার করতে √ এখানে ক্লিক করুন

আপনার ফেসবুক একাউন্ট থেকে খুব সহজেই কমেন্ট করুন

মন্তব্য করুনঃ

দয়া করে আপনার মন্তব্য লিখুন
দয়া করে আপনার নাম লিখুন

seven − 4 =