সহবাস করার নিয়ম

বি:দ্র: এটি একটি শিক্ষামুলক পোস্ট। লেখাটি শুধুমাত্র দাম্পত্য জীবনে কিছু গোপন সমস্যা সমাধান ও কিছু প্রশ্ন-উত্তর জানার জন্য পোস্ট করা হয়েছে। কোন প্রকার যৌন উত্তেজনা বা আকাঙ্খা তৈরি সৃস্টি করার জন্য লেখাটি প্রকাশ করা হয়নি। শুধুমাত্র প্রাপ্তবয়স্করাই এই লেখাটি দয়া করে পড়বেন। 

আমরা হয়তো অনেকেই ইসলামিক শরীয়ত মোতাবেক সহবাসের স্বাভাবিক নিয়ম বা পন্থা সম্পর্কে জানি না। তাই আমরা হয়তো অনেকেই এই ক্ষেত্রে ভূল করে আসছি। ইসলামিক শরীয়ত মোতাবেক সহবাসের সময় স্বামী-স্ত্রীকে পাক পবিত্র হয়ে নিতে হবে। এবং সহবাসের পূর্বে সুগন্ধি ব্যবহার করতে হয়। এটি আল্লাহর রাসুলের সুন্নাত। আর সহবাসের পূর্বে সকল প্রকার দুর্গন্ধ জাতীয় দ্রব্য পরিহার করা উচিত। যেমন- ধুমপান, মদ্য পান অথবা অপরিচ্ছন্ন থাকার কারণে দুর্গন্ধ সৃষ্টি ইত্যাদি। সহবাস শুরু করার সময় ‘বিসমিল্লাহ’ বলে শুরু করতে হয়। যদি তা ভূলে যান তাহলে বীর্যপাত হওয়ার পূর্বে মনে মনে পরে নিতে হবে।

* সহবাসের প্রথমে দোয়া পড়ে নিতে হয়:

স্ত্রী সহবাসের দোয়া :-

بِسْمِ اللَّهِ، اللَّهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ، وَجَنِّبِ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا

(বিসমিল্লাহি আল্লা-হুম্মা জান্নিবনাশ্-শাইত্বানা ওয়া জান্নিবিশ্-শাইত্বানা মা রযাকতানা)।

‘আল্লাহ্র নামে। হে আল্লাহ! আপনি আমাদের থেকে শয়তানকে দূরে রাখুন এবং আমাদেরকে আপনি যে সন্তান দান করবেন তার থেকেও শয়তানকে দূরে রাখুন।” (সুত্র :- বুখারী ৬/১৪১, নং ১৪১; মুসলিম ২/১০২৮, নং ১৪৩৪)

এরপর স্ত্রীকে আলিঙ্গন করবেন। স্ত্রী যদি ইচ্ছা হয় তখন তাকে ভালোবাসা দিবে এবং আদর সোহাগ দিবে। চুম্বন দিবে। তখন উভয়ের মনের পূর্ণ আশা হবে সহবাস। তখন বিসমিল্লাহ বলে শুরু করবেন।

মনে রাখবেন, স্ত্রী সহবাস করার সময় নিজের স্ত্রীর রূপ দর্শন শরীর স্পর্শন ও সহবাসের সুফলের প্রতি মনো নিবেশ করা ছাড়া অন্য কোনো সুন্দরী বালিকার রুপের কল্পনা করবেন না। স্ত্রীর ও তাই করা উচিৎ।

সহবাসের ক্ষেত্রে মনে রাখবেন-

  • – ফলবান গাছের নিচে স্ত্রী সহবাস করবে না।
  • – কেবলামূখী না হওয়া।
  • – একেবারে উলঙ্গ হবে না।
  • – বীর্যপাতের পর ততক্ষণাত বিচ্ছিন্ন হবে না, বরং স্ত্রীর বীর্যপাত হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবে।
  • – বীর্যপাতের সময় মনে মনে নির্ধরিত দোয়া পড়তে হবে। কারণ যদি সে সহবাসে সন্তান জন্ম নেয় তাহলে সে শয়তানের প্রভাব মুক্ত হবে।

যদিও হাদিস থেকে বিভিন্ন আসনে সহবাস করার দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়। তবে সহবাসের স্বাভাবিক পন্থা হলো স্বামী উপরে থাকবে আর স্ত্রী নিচে থাকবে। প্রত্যেক প্রাণীর ক্ষেত্রেও এই স্বাভাবিক পন্থা পরিলক্ষতি হয়। সর্বপরি এ দিকেই অত্যন্ত সুক্ষভাবে ইঙ্গিত করা হয়েছে আল কুরআনে। তাছাড়া এ পন্থাই সর্বাধিক আরামদায়ক এবং গর্ভধারণের জন্যেও তা উপকারী ও সহায়ক। আর ‘স্বামী নিচে এবং স্ত্রী উপরে’ থাকার পন্থাকে নিকৃষ্ট পন্থা বলা হয়।

 সহবাস আরও কিছু মূল্যবান কথা :

  • –    চন্দ্র মাসের প্রথম এবং পনের তারিখ রাতে স্ত্রী সহবাস করবেন না।
  • –    স্ত্রী সহবাস সময় পূর্ব-পশ্চিম দিকে শুয়ে করবেন না।
  • –    স্ত্রীর হায়েজ-নেফাসের সময় উভয়ের অসুখের সময় সহবাস করবেন না।
  • –    স্ত্রীর জরায়ু দিকে চেয়ে সহবাস করবেন না। এতে চোখের জ্যোতি নষ্ট হয়ে যায়।
  • –    বিদেশ যাওয়ার আগের রাতে স্ত্রী সহবাস করবেন না।
  • –    সহবাসের সময় স্ত্রীর সহিত বেশি কথা বলবেন না।
  • –    জোহরের নামাজের পরে স্ত্রী সহবাস করবেন না।
  • –    ভরা পেটে স্ত্রী সহবাস করবেন না।
  • –    উল্টাভাবে স্ত্রী সহবাস করবেন না।
  • –    স্বপ্নদোষের পর গোসল না করে স্ত্রী সহবাস করবেন না।

বি:দ্র: আমাদের প্রতিটি লেখার নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুকপেজ-এ লাইক দিন এবং বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন। আপনার মনে কোন প্রশ্ন থাকলে এবং যেকোন বিষয়ে জানতে চাইলে অথবা আপনার কোন লেখা প্রকাশ করতে চাইলে আমাদের ফেসবুক পেজ বিডি লাইফ এ যেয়ে ম্যাসেজ করতে পারেন।

ফেসবুকের হোমপেজে নিয়মিত আপডেট পেতে নিচের লাইক বাটনে ক্লিক করুন

⇒ লেখাটি ভালো লাগলে প্লিজ বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবেন। শেয়ার করতে √ এখানে ক্লিক করুন

আপনার ফেসবুক একাউন্ট থেকে খুব সহজেই কমেন্ট করুন

মন্তব্য করুনঃ

দয়া করে আপনার মন্তব্য লিখুন
দয়া করে আপনার নাম লিখুন

eleven + 19 =